দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো: মুহিত
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের মতে, বিনিয়োগ ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো।
সরকারের এক বছর পূর্তির প্রাক্কালে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কেমন-এ প্রশ্নের উত্তরে রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
মুহিত বলেন, “গত এক বছরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা (সরকার) যে সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছি তার ফলে ইতিমধ্যেই অর্থনীতিতে উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে। বিশ্ব অর্থনীতির চলমান মন্দার মধ্যেও বিনিয়াগ ছাড়া অর্থনীতির অন্য সব সূচক বেশ ভালো।”
বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকারের পাঁচ বছরের ‘দু:শাসন’ দেশের অর্থনীতিকে ‘ধ্বংস করে গেছে’ মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সেই ধ্বংসস্তুুপ থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। এরপরও অর্থনীতিতে উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।”
বিশ্বমন্দার প্রভাব কেটে গেলে অর্থনীতি আরও ভালোর দিকে অগ্রসর হবে বলে জানান তিনি।
অর্থনীতিতে তার ভাষায় ‘উর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত’ হওয়ার কারণ কী এ প্রশ্নের উত্তরে মুহিত বলেন, “এক বছরে মানুষের মনে বিশ্বাস এসেছে। আমাদের সরকারের প্রতি আস্থা বেড়েছে। এ কারণেই অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হয়েছে।”
অর্থনীতির নেতিবাচক দিক হিসেবে অর্থমন্ত্রী বিনিয়োগে স্থবিরতার কথা বলেন। এর কারণ হিসেবে জ্বালানি সঙ্কটের উল্লেখ করেন তিনি।
মুহিত বলেন, “গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বেশ খানিকটা বাড়ার পরও সঙ্কট কাটেনি। কারণ চাহিদাও দিন দিন বাড়ছে। আর এ কারণেই বিনিয়োগে স্থবিরতা কাটছে না।”
তবে শিল্প স্থাপনের জন্য ‘সবচেয়ে প্রয়োজনীয়’ মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি বেড়েছে উল্লেখ করে মুহিত বলেন, গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়াতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “আশা করছি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে স্থবিরতা রয়েছে তা খুব শিগগিরই কেটে যাবে।”
অর্থনীতির সবচেয়ে ভালো দিকগুলো কি- এ প্রশ্নের উত্তরে মুহিত সা�প্রতিক সময়ে কৃষিতে ভালো উৎপাদন ও ইতিবাচক আমদানি পরিস্থিতি, রপ্তানির মন্দা কাটা, রেমিটেন্সের রেকর্ড ও বৈদেশিক মুদ্রার শক্তিশালী রিজার্ভের কথা বলেন।
তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবস্থা একটু খারাপ থাকলেও সবমিলিয়ে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভালো বলেই মনে করেন মন্ত্রী।
দেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আগামী ছয় মাসে ১০ হাজার বেকারের চাকরির যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ‘প্রশংসনীয়’ বলে মন্তব্য করেন মুহিত।
সা�প্রতিককালে গৃহীত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার নতুন কৌশল সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) উদ্যোগে প্রকল্প বাস্তবায়নে অগ্রগতি দেখা না যাওয়ার অভিযোগও প্রকারান্তরে স্বীকার করেন তিনি।
মুহিত বলেন, “আসলে এ ক্ষেত্রে আমি স্বীকার করছি যে, যতো দ্রুত পিপিপি বাস্তাবায়ন করবো বলে আমরা ভেবেছিলাম; সেটা হচ্ছে না।”
তবে খুব শিগগিরই যোগাযোগ খাতের তিন বড় প্রকল্প পিপিপি’র আওতায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুই বছর দেশের অর্থনীতি কেমন ছিল-এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু সংস্কার করেছিল। যার কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু মানুষের মধ্যে ভয়ের কারণে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়েছিল।”
বিএনপি-জামায়াত সরকারের পাঁচ বছরে অবস্থা “সবচেয়ে খারাপ ছিল” বলে মন্তব্য করেন মুহিত। তিনি বলেন,”ঐ পাঁচ বছরে দেশের অর্থনীতি একেবারে ধ্বংস হয়েছিল।”
তাহলে বিএনপি সরকারের পাঁচ বছর প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের ওপরে ছিল কিভাবে -এ প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, “বিবিএসকে (বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো) ধ্বংস করে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো হয়েছিল।”


