জলবায়ু সম্মেলন
উন্নত বিশ্বের ভোগ-বিলাসিতা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণে বিশ্বের গরিব দেশগুলোসহ গোটা পৃথিবী আজ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, বিপর্যস্ত। পৃথিবীর উষ্ণায়ন রোধে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে। কিন্তু বিশ্বের ধনী ও উন্নত দেশগুলোর অসহযোগিতার কারণে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জলবায়ু সম্মেলনের পর ১৯৯৭ সালে জাপানের কিয়োটো সম্মেলনে কার্বন নিঃসরণ কমানোর একটি চুক্তি হয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কিয়োটো প্রটোকল নামে পরিচিত সে চুক্তিতে স্বাক্ষর না করায় তা সফল হয়নি।
এবার বিশ্বের বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন ও বিজ্ঞানীদের নানা উদ্বেগজনক ভবিষ্যদ্বাণী এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব প্রত্যক্ষ করে বিশ্বের ধনী-দরিদ্র সব দেশ এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছিল কোপেনহেগেনে। বিশ্ববাসী আশায় বুক বেঁধেছিল, এবার হয়তো কোপেনহেগেন সম্মেলন বিশ্বকে বিপর্যয় থেকে মুক্তির একটি পথ দেখাবে। তাই তারা কোপেনহেগেনকে ভাবতে লাগল হোপেনহেগেন (আশার নগর) হিসেবে। কিন্তু শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে যে চুক্তি (অ্যাকর্ড) হলো, তাতে আবারও হতাশ হলো ধরিত্রীবাসী। জলবায়ু পরিবর্তনের হিংস্রতা থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে প্রয়োজন ছিল কার্যকর চুক্তির, কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে পাওয়া গেল কেবল একটি ঘোষণা। এ যেন বিশাল পর্বতের এক মূষিক প্রসব। এ সমঝোতা প্রস্তাবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়নি। প্রস্তাবটিকে উপহাস করে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ইন্টারন্যাশনালের প্রধান কুমি নাইডু বলেন, ‘সমঝোতায় এত বেশি ফাঁক রয়েছে যে এর মধ্য দিয়ে একটি বিমান উড়ে যেতে পারবে।’
তবে কেউ কেউ বলছেন, ‘অপ্রাপ্তির হতাশা যা-ই থাক, এ সম্মেলনে যে চুক্তি হলো, তা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি থেকে এ ধরিত্রীকে রক্ষার সম্মিলিত উদ্যোগের সূচনা। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো তাদের জোরালো অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছে।’ হয়তো তা-ই। তবে চুক্তিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ, মালদ্বীপসহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঝুলিতে ‘জলবায়ু-বিপন্ন দেশ’ হিসেবে স্বীকৃতি ছাড়া আর তেমন কিছুই জোটেনি। তাই এ অবস্থায় কোপেনহেগেন সম্মেলনের প্রাপ্তিকে যতই ‘অর্থপূর্ণ সমঝোতা’ বা ‘গুরুত্বপূর্ণ সূচনা’ বলা হোক না কেন, তাতে ওই বিপন্ন দেশগুলো আশ্বস্ত হবে না।
মুহাম্মদ নাজমুল হক
প্রভাষক
উল্লাপাড়া মার্চেন্টস পাইলট স্কুল অ্যান্ড টেকনিক্যাল কলেজ
উল্লাপাড়া, সিরাজগঞ্জ।


