সবচেয়ে দ্রুতগতির ট্রেন ছোটালো চীন
বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করেছে চীন। ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম তাদের দুটি ট্রেন শনিবার সাড়ে ১০ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়েছে মাত্র তিন ঘণ্টায়।
মধ্য চীনের উহান শহর এবং দক্ষিণাঞ্চলীয় বাণিজ্যিক নগরী গুয়াংঝউ পর্যন্ত এ ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
পরীক্ষামূলকভাবে এ রুটে গত ৯ ডিসেম্বর ট্রেন চালিয়েছিল চীন। তখন তার গতি উঠেছিল ঘণ্টায় ৩৯৪ দশমিক ২ কিলোমিটার পর্যন্ত।
শনিবার সকাল ৯টার দিকে উহান রেল স্টেশন এবং গুয়াংঝউ নর্থ রেল স্টেশন থেকে দুটি ট্রেন যাত্রা করে তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছায়। এর আগে এ পথ পাড়ি দিতে লাগতো ১০ ঘণ্টার বেশি।
গুয়াংঝউয়ে পর্যটন ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিয়ানিং নগরীর ৬০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শীতের সকালের ১০টার দিকে সিয়ানিং নর্থ স্টেশন থেকে এর একটি ট্রেনে চড়ে। দুই ঘণ্টার মাথায় ট্রেনটি গুয়াংঝউ পৌঁছানো মাত্রই তাদের শীতের কোট খুলে ফেলতে। কারণ সেখানে তখন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সময় মধ্য দুপুর।
প্রতিনিধিদলের একজন সিয়ানিংয়ের ইয়ায়োচি হোটেলের ম্যানেজার জেং জেংজিন বার্তাসংস্থা সিনহুয়াকে তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন এ সার্ভিস চালুর অপেক্ষায় ছিলাম। আগে এ পথ আসতে ১০ ঘণ্টার বেশি সময় লাগতো। অতিরিক্ত যাত্রী আর দীর্ঘ ভ্রমণে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম আমরা।”
“খুব আরামদায়ক ও দ্রুত ভ্রমণ করতে পারা সত্যিই সুখবর,” বলেন তিনি।
সার্ভিসটি নিয়মিত হতে থাকায় পার্ল রিভার ডেল্টা ও সিয়ানিংয়ের মতো স্বল্পোন্নত এলাকার মধ্যে সহযোগিতা ঘনিষ্ঠ হওয়ার আশা ব্যক্ত করেন জিংনিংয়ের এই হোটেল ম্যানেজার।
উহান-গুয়াঝং উচ্চগতির রেললাইনের নকশা করার দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী জু ফাংলিয়াং জানান, ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতির ট্রেন চলাচলের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে গুয়াংডং প্রদেশের গুয়াঝউ থেকে শেনঝেন পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছিল। গত পাঁচ বছরে সে লাইনের উন্নয়ন করে তার দ্বিগুণ গতির ট্রেন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে।
বর্তমানে গড়পড়তা উচ্চগতিসম্পন্ন ট্রেনের মধ্যে জাপানে ঘণ্টায় ২৪৩ কিলোমিটার, জার্মানিতে ২৩২ কিলোমিটার এবং ফ্রান্সে ২৭৭ কিলোমিটার গতির ট্রেন চলাচল করছে।


