ছাত্রলীগের হামলায় মৈত্রী নেতা নিহত:রাজশাহী পলিটেকনিক বন্ধ ঘোষণা: ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রশিবিরের মদদের অভিযোগ
নিউজ আওয়ার্স বিডি: রাজশাহী, ৭ জানুয়ারী:
রাজশাহী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রমৈত্রীর পলিটেকনিক শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি রেজাউল ইসলাম সানি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে পুলিশসহ চারজন। পুলিশ চার ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।
আহতরা হলো ছাত্রমৈত্রীর পলিটেকনিক শাখার সভাপতি কাজী মোতালেব জুয়েল, কর্মী শেরাফত আলী বুলবুল, বোয়ালিয়া থানা পুলিশ কনস্টেবল আশরাফ ও শহিদুল। এদের মধ্যে বুলবুলের অবস্থা গুরুতর। তার মাথায়, বুকে, পিঠে আঘাত লেগেছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জুয়েলকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পিঠে ও মাথায় প্রায় ৫০টি সেলাই দেয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ইন্সটিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা বিকাল ৫টার মধ্যে হল, ছাত্রাবাস ত্যাগ করেছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তার ও আগের দ্বন্দ্বের জের ধরে বৃহস্পতিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রমৈত্রী নেতা রেজাউল ইসলাম সানি, কাজী মোতালেব জুয়েল ও শেরাফত আলী বুলবুল একাডেমিক ভবনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। ওই ভবনের পাশে আগে থেকেই পুলিশ অবস্থান করছিল। এ সময় ছাত্রলীগের পলিটেকনিক শাখার সভাপতি সাদ্দাম হোসেন নিজামের নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল অতর্কিত তাদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা চাপাতি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ হামলাকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালায়। এতে পুলিশের দুই সদস্য আহত হয়। তাদের হাতে চাপাতির কোপ লাগে। পুলিশ সেখান থেকে নবীন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
রেজাউল ইসলাম সানি, কাজী মোতালেব জুয়েল ও শেরাফত আলী বুলবুলকে তাৎক্ষণিকভাবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হামলায় তারা মাথা, বুক, পিঠ, হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়।
রাজশাহী মহানগর ছাত্রমৈত্রী সভাপতি মতিউর রহমান মতি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে রেজাউল ইসলাম সানি মারা যায়।
সানি কম্পিউটার বিভাগের ৭তম সেমিস্টারের ছাত্র। সানির বাবার নাম মনোয়ার হোসেন নান্নু। তিনি মহানগরীর মতিহার থানা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক। মা শাহীন মনোয়ার। তিনি মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সহসভানেত্রী।
সানির মৃত্যুতে ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আত্মীয়স্বজন, শিক্ষক, সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সংঘর্ষের পর পুলিশ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের আবাসিক হলে ঘণ্টাব্যাপী তল্লাশি চালায়। এ সময় পুলিশ শাহ নেয়ামতুল্লাহ হল থেকে তিন ছাত্রলীগ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে এ হামলার পেছনে ছাত্রশিবিরের ইন্ধন রয়েছে বলে ছাত্রমৈত্রী ও ছাত্রলীগ দাবি করেছে। ছাত্রমৈত্রী মহানগর শাখার সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, বিগত মেয়র নির্বাচনের আগে পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগে কৌশলে বেশ কিছু শিবির ক্যাডার ঢুকে পড়ে। হামলায় নেতৃত্বদানকারী পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন নিজাম এদের অন্যতম। এই হামলার পেছনে ছাত্রশিবির ক্যাডারদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মহানগর শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার এ ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরচক্র এ হামলার নেপথ্যে কাজ করেছে। তিনিও নিজামকে ছাত্রশিবিরের চর বলে দাবি করেন।



