বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বিতীয় ষাণ্মাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে
প্রবৃদ্ধি ও মূল্য পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০৯-১০ অর্থবছরের দ্বিতীয় ষাণ্মাসিক (জানুয়ারি থেকে জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান আজ মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে নতুন এই মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
এবার প্রথমবারের মতো মুদ্রানীতি প্রণয়নে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সরকার, বিভিন্ন পেশাজীবী ও বুদ্ধিজীবীসহ স্বার্থসংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হয়েছে।
নতুন মুদ্রানীতিতে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে স্বীকার করা হয়েছে। গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, মাসভিত্তিক মূল্যস্ফীতির হার বা পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভোক্তা মূল্যস্ফীতিতে ওঠানামাসহ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষণীয়। আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যে তেজীভাবের কারণে ফসল কাটার মৌসুমেও অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্য বিরাজমান। এসব গতিধারা থেকে প্রতীয়মান হয় যে চলতি অর্থবছরের অবশিষ্ট মাসগুলোতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভোক্তা মূল্যস্ফীতিতে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকবে। অন্যদিকে বার্ষিক গড় মূল্যস্ফীতিও অর্থবছরের শেষ দিকে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে। এ সত্ত্বেও অর্থবছর শেষে (জুন, ২০১০) এ হার এর আগে মুদ্রানীতিতে ঘোষিত প্রক্ষেপণ ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে থাকবে।
আতিউর রহমান বলেন, অভ্যন্তরীণ বাজারে খাদ্যশস্যের উচ্চমূল্যের কারণে কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন। তাঁদের প্রণোদনা বাড়ছে। আগামী বোরো মৌসুমে অধিক ফসল ফলাতে তাঁরা উত্সাহিত হবেন।
অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতের জন্য বার্ষিক ঋণ প্রবৃদ্ধির হার প্রক্ষেপণ করেছিল ১৬ দশমিক ৭০ শতাংশ। গত নভেম্বরের হিসাবে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির হার ১৬ দশমিক ৭৩ শতাংশে ঠেকেছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বেসরকারি খাতের ঋণের জোগান টেনে ধরা হবে কি না, প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি বাড়লেও ব্যাংক-ব্যবস্থায় সরকারের ঋণ কমেছে। ফলে বেসরকারি খাতে আরও একটু ঋণ বাড়লে এবং সরকারের ঋণ কম থাকলে সার্বিক ঋণপ্রবাহ প্রক্ষেপণ অনুসারে ঠিক থাকলে কোনো সমস্যা নেই। এতে বরং বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা, জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী, গভর্নরের ঊর্ধ্বতন পরামর্শক, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আল্লাহ মালিক কাজেমীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



