বাংলাদেশ হারল তবু সান্ত্বনা মুশফিকুরের সেঞ্চুরি
আবারো হারল বাংলাদেশ। ভারত এগিয়ে গেল ১-০ তে। মুশফিকুর রহিমের শেষ বেলায় করা অনবদ্য শতকটি চট্টগ্রাম টেস্টের ফলাফলে কোনো প্রভাব রাখতে না পারলেও টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের সীমাহীন ব্যর্থতার ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ লাগাতে পেরেছে। সম্পূর্ণ ব্যাটিং উপযোগী পরিবেশে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা উইকেটে টিকে থাকতে না পারার প্রতিযোগিতায় মেতেছিলেন আজ। সেই প্রতিযোগিতায় ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ ১১৩ রানে পরাজিত।
পঞ্চম দিন সকালে আগের দিনের অপরাজিত তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ আশরাফুল শুরুটা আশাজাগানিয়া হয়নি। আগের দিনের ৬৭ রানের সঙ্গে ১২ রান যোগ করতেই ইশান্ত শর্মার অফ স্ট্যাম্পের বাইরের একটি বল কাভারে খেলতে গিয়ে স্লিপে রাহুল দ্রাবিড়ের হাতে ধরা পড়েন মোহাম্মদ আশরাফুল। এরপর দলীয় রান ১০০-এর কোটা পেরোনোর আগেই রকিবুল আউট। রকিবুল আউট হয়ে যাওয়ার পর অধিনায়ক সাকিব ও তামিম মিলে একটি জুটি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছিলেন। এই দুজন মিলে লাঞ্চের আগের সেশনটি পার করে দিতে চাচ্ছিলেন। এর মধ্যে তামিম পূরণ করে ফেলেন তাঁর অর্ধ শতক। লাঞ্চের কয়েক মিনিট বাকি থাকতে বীরেন্দর শেবাগের একটি বাইরের বলের লোভ সামলাতে না পেরে তামিম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। লাঞ্চের পরপরই আউট হন সাকিব। এরপর আশার আরেক সারথি মাহমুদউল্লাহও তাড়াতাড়ি আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশ বড়সরো পরাজয়েরই প্রহর গুনতে থাকে।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকেরা যখন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের আরও একটি বড় পরাজয়ের প্রহর গুনছিল একরাশ হতাশা আর ক্ষোভ নিয়ে; ঠিক তখনি মুশফিকুর রহিম ভাবছিলেন অন্য কথা। তিনি তিন টেইল এন্ডার শাহদাত, শফিউল ও রুবেলকে সঙ্গী করে খেললেন এক মান বাঁচানো ইনিংস। ১১৪ বলে ১৭টি চারের মাধ্যমে সাজানো তাঁর এই সেঞ্চুরিটি মাঠে ও মাঠের বাইরে বাংলাদেশের মুষড়েপড়া লাখো-কোটি সমর্থকদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেয়। তাঁর মারমার কাটকাট ব্যাটিংয়ে আনন্দের পাশাপাশি দর্শকদের হতাশার মাত্রাটা আর বাড়িয়ে তোলে—টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা যদি ভালো খেলতেন!



