‘থিম্পু রজতজয়ন্তী ঘোষণা’র ৩৬ দফা পালনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন
নিউজ আওয়াস বিডি ডেক্স:
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত গণতন্ত্র সনদসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সুশাসন শক্তিশালীকরণের ‘থিম্পু রজতজয়ন্তী ঘোষণা’র ৩৬ দফা পালনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের সমাপনী দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার থিম্পুর গ্রান্ড এসেম্বলি হলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের সবগুলো দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশংসা এবং এখানকার জনগণের জন্য একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সম্মেলনে সার্ক গণতন্ত্র সনদের ধারণাকে আরো গতিশীল করতে ঢাকায় একটি আট জাতি সংলাপ আহ্বানে বাংলাদেশের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারা সার্ক চার্টার বাস্তবায়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকেরও প্রস্তাব করেন। এ জন্য সদস্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন তারা। সার্কের রজতজয়ন্তীতে এ সংস্থাভুক্ত দেশের নেতৃবৃন্দ একটি উন্নয়ন-রূপকল্প প্রণয়ন ও দক্ষিণ এশিয়া ফোরাম গঠন করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। এতে করে বিভিন্ন বিতর্ক ও ধারণা আদান-প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে নেতৃবৃন্দ ধারণা করছেন। এবারের সম্মেলনের থিম্পু ঘোষণায় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে প্রধান উপজীব্য করে দক্ষিণ এশিয়াকে সারাবিশ্বে কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকারীদের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনের সমাপনী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে থিম্পু ঘোষণায় সার্ক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সার্কের দেশগুলো একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার দক্ষিণ এশিয়ায় এ জন্য এখন একটি সমন্বিত প্রয়াসের ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সার্ক নেতৃবৃন্দ ঢাকা ঘোষণা অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় একটি সার্ক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি থিংক ট্যাংক গঠনে সম্মত হন শীর্ষ নেতারা। সার্কের দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শুরু হয়ে গতকাল শেষ হয়। এবারের সম্মেলনে পরিসেবা খাত এবং পরিবেশ বিষয়ক দু’টি চুক্তি হয়েছে। আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল চুক্তি দু’টিতে স্বাক্ষর করেন। সব দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আগামী বছর পরবর্তী সার্ক শীর্ষ সম্মেলন দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত হবে। নেতৃবৃন্দ ফোরামে বিভিন্ন সমাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে দায়িত্ব প্রদানের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এর ফলে এ সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি অসাম্প্রদায়িক বোঝাপড়া তৈরি হতে পারে। যাতে করে বিদ্যমান অবকাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই নানাবিধ মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এ ধরনের একটি ফোরাম পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ মালিকানার মাধ্যমে পরিচালনা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন উৎস থেকে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে ধারণা করছেন নেতৃবৃন্দ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির স্বীকার হতে হচ্ছে। তারা এ সমস্যা সমাধানে আসন্ন মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-১৬ সম্মেলনে সংস্থাভুক্ত প্রতিটি দেশের একটি সাধারণ অবস্থান নেয়ার ব্যাপারে একমত হন। পরিবেশগত সমস্যাবলী সমাধানের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নেতৃবৃন্দ এ জন্য পরিবেশবান্ধব অল্প কার্বন নিঃসরণকারী ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হন। তারা সার্ক সম্মেলনে স্বাক্ষরিত পরিবেশ বিষয়ক চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ব্যাপারেও একমত হন। এ অঞ্চলের ঘন ঘন দুর্যোগপ্রবণ আবহাওয়া বিবেচনায় এ চুক্তি সংক্রান্ত সব ধরনের দাফতরিক কার্যাবলী দ্রুত সম্পাদনের উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ পানি ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণের ব্যাপারে জোর দেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি, আবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ব্যাপারে তারা একমত হন। দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি খাতের উন্নয়নে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এ সংক্রান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দেন নেতৃবৃন্দ। সেইসঙ্গে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বসানোর পাশাপাশি সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ইসলামাবাদের সার্ক জ্বালানি কেন্দ্রকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারেও একমত হন তারা। শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে নেতৃবৃন্দ ভারতের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বিদ্যুৎ মার্কেট চালু, শীর্ষ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত পরিসেবার খাত বিষয়ক চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে করণীয়, সাফটা চুক্তির আলোকে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও উন্নত-উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন। এ ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্পর্শকাতর পণ্য তালিকা সংকোচন ও ট্যারিফ সংক্রান্ত সব জটিলতা অপসারণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন নেতৃবৃন্দ। এসবের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। এ জন্য প্রয়োজনে কঠোর তদারকি ও মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করেন তারা। নেতৃবৃন্দ সার্ক উন্নয়ন তহবিল গঠনকে স্বাগত জানান। সেইসঙ্গে বৃহত্তর আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য করণীয় নির্ধারণের ব্যাপারে তারা একমত হন। এ জন্য আগামী ২০১০-২০২০ দশককে সার্কের পক্ষ থেকে আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ দশক হিসেবে আখ্যায়িত করার সুপারিশ করেন নেতৃবৃন্দ। এ অঞ্চলের কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক বীজ-ব্যাংক চালু ও অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ একমত হন। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সার্ক নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ক্রেডিট ট্রান্সফার সুবিধা চালুর সুপারিশ করেন। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ এবং আদম ও মাদক পাচার দমনে এ অঞ্চলের সবগুলো দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন আট দেশের নেতৃবৃন্দ। আজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী : দু’দিনের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আজ শুক্রবার সকালে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার তিনি থিম্পু যান। থিম্পুতে অবস্থানকালে সার্ক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ভুটানের রাজা জিগমে থিনলে ওয়াংচুক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।নিউ
বাংলাদেশের প্রস্তাবিত গণতন্ত্র সনদসহ আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সুশাসন শক্তিশালীকরণের ‘থিম্পু রজতজয়ন্তী ঘোষণা’র ৩৬ দফা পালনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনের সমাপনী দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার থিম্পুর গ্রান্ড এসেম্বলি হলে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের সবগুলো দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রশংসা এবং এখানকার জনগণের জন্য একটি কার্যকর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এ ছাড়া সম্মেলনে সার্ক গণতন্ত্র সনদের ধারণাকে আরো গতিশীল করতে ঢাকায় একটি আট জাতি সংলাপ আহ্বানে বাংলাদেশের প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার রাষ্ট্রপ্রধানরা। তারা সার্ক চার্টার বাস্তবায়নে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠকেরও প্রস্তাব করেন। এ জন্য সদস্য দেশগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন তারা। সার্কের রজতজয়ন্তীতে এ সংস্থাভুক্ত দেশের নেতৃবৃন্দ একটি উন্নয়ন-রূপকল্প প্রণয়ন ও দক্ষিণ এশিয়া ফোরাম গঠন করার ব্যাপারে জোর দিয়েছেন। এতে করে বিভিন্ন বিতর্ক ও ধারণা আদান-প্রদানের মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে নেতৃবৃন্দ ধারণা করছেন। এবারের সম্মেলনের থিম্পু ঘোষণায় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে প্রধান উপজীব্য করে দক্ষিণ এশিয়াকে সারাবিশ্বে কার্বন নির্গমন হ্রাস এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারকারীদের অন্যতম হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করা হয়। সম্মেলনের সমাপনী দিনে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে থিম্পু ঘোষণায় সার্ক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, সার্কের দেশগুলো একদিকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং অন্যদিকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের মতো বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার দক্ষিণ এশিয়ায় এ জন্য এখন একটি সমন্বিত প্রয়াসের ব্যাপারে জোর দেয়া হয়। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সার্ক নেতৃবৃন্দ ঢাকা ঘোষণা অনুযায়ী জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় একটি সার্ক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি থিংক ট্যাংক গঠনে সম্মত হন শীর্ষ নেতারা। সার্কের দু’দিনের শীর্ষ সম্মেলন বুধবার শুরু হয়ে গতকাল শেষ হয়। এবারের সম্মেলনে পরিসেবা খাত এবং পরিবেশ বিষয়ক দু’টি চুক্তি হয়েছে। আট দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গতকাল চুক্তি দু’টিতে স্বাক্ষর করেন। সব দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। আগামী বছর পরবর্তী সার্ক শীর্ষ সম্মেলন দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত হবে। নেতৃবৃন্দ ফোরামে বিভিন্ন সমাজের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিবর্গকে দায়িত্ব প্রদানের ব্যাপারে একমত হয়েছেন। এর ফলে এ সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে একটি অসাম্প্রদায়িক বোঝাপড়া তৈরি হতে পারে। যাতে করে বিদ্যমান অবকাঠামো ও নীতিমালার মধ্যেই নানাবিধ মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সম্ভব হয়। এ ধরনের একটি ফোরাম পাবলিক-প্রাইভেট যৌথ মালিকানার মাধ্যমে পরিচালনা সম্ভব এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন উৎস থেকে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে ধারণা করছেন নেতৃবৃন্দ। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, সার্কভুক্ত দেশগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী না হলেও তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির স্বীকার হতে হচ্ছে। তারা এ সমস্যা সমাধানে আসন্ন মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য কপ-১৬ সম্মেলনে সংস্থাভুক্ত প্রতিটি দেশের একটি সাধারণ অবস্থান নেয়ার ব্যাপারে একমত হন। পরিবেশগত সমস্যাবলী সমাধানের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নেতৃবৃন্দ এ জন্য পরিবেশবান্ধব অল্প কার্বন নিঃসরণকারী ও নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও ব্যবহার বাড়ানোর ব্যাপারে একমত হন। তারা সার্ক সম্মেলনে স্বাক্ষরিত পরিবেশ বিষয়ক চুক্তির দ্রুত বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ব্যাপারেও একমত হন। এ অঞ্চলের ঘন ঘন দুর্যোগপ্রবণ আবহাওয়া বিবেচনায় এ চুক্তি সংক্রান্ত সব ধরনের দাফতরিক কার্যাবলী দ্রুত সম্পাদনের উদ্যোগ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ পানি ব্যবস্থাপনা বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প গ্রহণ, সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে সম্মিলিত প্রয়াস গ্রহণের ব্যাপারে জোর দেন। এ জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যাদি, আবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ব্যাপারে তারা একমত হন। দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি খাতের উন্নয়নে এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে এ সংক্রান্ত বাণিজ্য বাড়ানোর তাগিদ দেন নেতৃবৃন্দ। সেইসঙ্গে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বসানোর পাশাপাশি সব ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতকে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতিও দেন সার্কভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। ইসলামাবাদের সার্ক জ্বালানি কেন্দ্রকে ঢেলে সাজানোর ব্যাপারেও একমত হন তারা। শীর্ষ সম্মেলনের শেষ দিনে নেতৃবৃন্দ ভারতের প্রস্তাবিত আঞ্চলিক বিদ্যুৎ মার্কেট চালু, শীর্ষ সম্মেলনে স্বাক্ষরিত পরিসেবার খাত বিষয়ক চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নে করণীয়, সাফটা চুক্তির আলোকে আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি ও উন্নত-উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করেন। এ ছাড়াও সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্পর্শকাতর পণ্য তালিকা সংকোচন ও ট্যারিফ সংক্রান্ত সব জটিলতা অপসারণের ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন নেতৃবৃন্দ। এসবের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দারিদ্র্য দূরীকরণে সার্ক উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সঠিকভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। এ জন্য প্রয়োজনে কঠোর তদারকি ও মধ্যমেয়াদি পর্যালোচনার ব্যবস্থা রাখার সুপারিশ করেন তারা। নেতৃবৃন্দ সার্ক উন্নয়ন তহবিল গঠনকে স্বাগত জানান। সেইসঙ্গে বৃহত্তর আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রণয়নের জন্য করণীয় নির্ধারণের ব্যাপারে তারা একমত হন। এ জন্য আগামী ২০১০-২০২০ দশককে সার্কের পক্ষ থেকে আন্তঃআঞ্চলিক যোগাযোগ দশক হিসেবে আখ্যায়িত করার সুপারিশ করেন নেতৃবৃন্দ। এ অঞ্চলের কৃষিখাতে উন্নয়নের জন্য আঞ্চলিক বীজ-ব্যাংক চালু ও অত্যাধুনিক কৃষি প্রযুক্তি আদান-প্রদানের ব্যাপারে নেতৃবৃন্দ একমত হন। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সার্ক নেতৃবৃন্দ এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ক্রেডিট ট্রান্সফার সুবিধা চালুর সুপারিশ করেন। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদ এবং আদম ও মাদক পাচার দমনে এ অঞ্চলের সবগুলো দেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন আট দেশের নেতৃবৃন্দ। আজ দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী : দু’দিনের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিয়ে আজ শুক্রবার সকালে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত মঙ্গলবার তিনি থিম্পু যান। থিম্পুতে অবস্থানকালে সার্ক সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। ভুটানের রাজা জিগমে থিনলে ওয়াংচুক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেকের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


