এরশাদের রাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলা: আবার পেছালো
নিউজ আওয়াস বিডি:
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান হুসাইন মুহম্মদ এরশাদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে রাডার ক্রয় সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার বিচার কাজ আবারও পিছেয়ে গেল। মামলার বাদি আদালতে সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় আবারও নতুন তারিখ ধার্য্য হয়েছে।
সোমবার মামলার বাদী তৎকালীন দুনীর্তি দমন ব্যুরোর সহকারী পুলিশ সুপার আলী হায়দার আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য হাজির না হওয়ায় বিচারক আগামি ৮ জুলাই এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহনের তারিখ পুনরায় নির্ধারণ করেছেন।
আদালত সুত্র জানায়, আদালতে হাজির হওয়ার জন্য এ পর্যন্ত পনের থেকে ষোল বার বাদিকে সমন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। বিচারক পরোয়ানায় উল্লেখ করেছেন, বাদি/এজাহারকারী সাক্ষ্য দিতে না আসায় গুরুত্বপূর্ন এ মামলার বিচারকাজে বিলম্ব হচ্ছে।
সোমবার বিচারক বাদী হায়দারের বিরুদ্ধে আবারো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এর আগে গত ১১ ফেব্রুয়ারি এবং ১৮ মার্চও তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন একই বিচারক। ওই পরোয়ানা দুদক এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
আদালত জানায়, এরশাদ ১৯৯০ সালে ক্ষমতাচ্যুতের পর ১৯৯২ সালের ৪ এপ্রিল ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা দায়ের করে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরো। মামলায় অভিযোগে বলা হয়, এরশাদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অপর আসামীদের সঙ্গে যোগসাজশে ফ্রান্স থেকে রাডার না কিনে অপেক্ষাকৃত বেশি দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনেন। এতে রাষ্ট্রের ৬৪ কোটি ৪ লাখ ৪২ হাজার ৯ শ ১৮ টাকার ক্ষতি হয়। দুর্নীতির মাধ্যমে আসামীরা সরকারি টাকা আত্মসাত করেন।
১৯৯৪ সালের ২৭ নভেম্বর মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ৯৫ সালের ১২ আগষ্ট এরশাদসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
সোমবার এরশাদের পক্ষে অ্যাডভোকেট শেখ সিরাজুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৫ ধারায় আইনজীবীর মাধ্যমে হাজিরা দেন। এ মামলার অপর আসামি বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সুলতান মাহমুদ আদালতে হজির হন। অপর আসামী সাবেক প্রধান মমতাজ উদ্দিন আহমেদও আদালতে হাজির হননি। তিনি হজিরার জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চান। এ মামলায় অপর অভিযুক্ত ইউনাইটেড ট্রের্ডাসের এ কে এম মুসা পলাতক রয়েছ।
অপরদিকে রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক আসাদুজ্জামান আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলেছেন, বাদির ঠিকানা কেউ বলতে পারছেন না এবং তাকে গ্রেফতার করা যাচ্ছে না।


