কুড়িগ্রামে ভিজিডিইউপি প্রকল্পের সরবরাহকৃত ছাগল মরে যাচ্ছে: সুফলভোগীরা দিশেহারা
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামে ভিজিডিইউপি প্রকল্পে অতিদরিদ্রদের আত্মকর্মসংস্থানে দেয়া প্রায় সব ছাগল মরে যাওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সুবিধাভোগীরা। ছাগলসহ অন্যান্য সম্পদ সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সুবিধাভোগীরা।
কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের সুফলভোগীদের মধ্যে স্টেশন পাড়ার নূর বকসের স্ত্রী লুৎফা বেগম এই প্রকল্প থেকে গত বৃহষ্পতিবার ৪টি ছাগল পেয়েছেন। ৪দিনের মধ্যে ৪টিই মরে গেছে। শুধু তাই নয়, গোটা মৌজায় ২৩জন উপকারভোগীকে ৮৭টি ছাগল বিতরন করা হয়। তার মধ্যে ৪৭টি মরে গেছে। বাকীগুলো রুগ্ন ও নানা ব্যাধীতে আক্রান্ত। যে কোনো সময় মারা যেতে পারে। সুফলভোগীরা অভিযোগ করেছেন, দুটি বাঁশ কেটে একজন দিনমজুরকে দিয়ে ছাগল রাখার খোঁয়ার তৈরিতে ৪শ’ টাকা খরচ হলেও তাদের বরাদ্দ থেকে ৯শত ৭৫টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। খাবার বাবদ ৬শ’ টাকা কেটে নেওয়া হলেও ৪শত ৫০টাকার ১৮টাকা কেজি দরে ২৫কেজি টাকার খাবার দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয় ছাগলগুলো ছোট ও রোগাটে। প্রতিটি ছাগলকে রোগ প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ৩০টাকা করে কেটে নেওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা আরডিআরএস ও জিইউকে নামে দুটি এনজিও এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পায়তারা করছে। এ বিপর্যয়ের ফলে সুফলভোগীরা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সদর উপজেলার প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল হুদা সরকার জানান, এই ছাগলগুলোকে কোনো ভ্যাকসিন দেওয়া হয়নি। ফলে পাতলা পায়খানা, চোখ-মূখ-নাক দিয়ে পানি ঝড়ে পড়ে পানি শুন্যতা হওয়ায় ডায়রিয়া জনিত প্রেস্টিজ ডিজ প্রেটিস রুমিন্যান্ট (ফিসিআর) রোগে আক্রান্ত হয়ে ছাগলগুলো মারা গেছে।
জেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইউরোপিয়ান কমিশনের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচীর সহায়তায় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ১১টি এনজিওর মাধ্যমে ভারনাবেল গ্রুপ ডেভলপমেন্ট ফর আলট্রা পুওর (ভিজিডিইউপি) প্রকল্প ২০০৯ সালের মে মাস থেকে বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, ময়মনসিংহ, জোমালপুর, সিরাজগঞ্জ ও নেত্রকোনা এই ৮টি জেলার ৩৬টি উপজেলায় ৩হাজার ১১৫টি গ্র“পে ৮০হাজার অতিদরিদ্র মহিলাকে প্রতিমাসে ৪শ’ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও প্রতিমাসে তাদের নামে ৫০টাকা করে সঞ্চয় জমা করা হচ্ছে। এ সহায়তা তারা দুবছর পাবেন। এ বাদে প্রত্যেককে প্রশিণ অনুযায়ী ছাগল, ভেড়া ও হাঁস-মুরগী পালন, ুদ্র ব্যবসা ও টেইলারিংসহ বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থানমূলক কাজে ৭হাজার ৫শত টাকা মূল্যমানের সম্পদ পাবেন। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের ৯টি উপজেলায় ৮৬৬টি গ্র“পে ২০হাজার অতিদরিদ্র মহিলাকে কর্মসূচীতে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এদের সঞ্চয়সহ ২১ কোটি ৬০লাখ টাকা নগদ সহায়তা এবং ১৫কোটি টাকা মূল্যেমানের সম্পদ দেওয়া হবে। কুড়িগ্রামে আরডিআরএস ও জিইউকে নামক দুটি এনজিও প্রশিক্ষণ প্রদান ও সম্পদ হস্তান্তরের কাজ করছে।
উপকারভোগী রেখা, জেলেখা, মালেকা, ফিরোজাসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করেছেন, দুটি বাঁশ ফালা ফালা করে একজন লেবারের দ্বারা ছাগল রাখার যে খোয়াড় তৈরি করা হয়েছে তাতে ৪শ’ টাকাও খরচ হওয়ার কথা নয়। অথচ তাদের বরাদ্দ থেকে এ বাবদ ৯৭৫টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। খাবার বাবদ ৬শ’ টাকা করে কেটে নেওয়া হলেও ১৮টাকা কেজি দরের ২৫ কেজি করে ৪৫০টাকার খাবার দেওয়া হয়েছে। ছাগলগুলো ছোট এবং রোগাটে। এভাবে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে।
ছাগল মারা যাওয়ার ঘটনার কথা স্বীকার করে বেলগাছা ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার তাহমিনা বেগম ও চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, সম্পদ ক্রয় ও বিতরনের বিষয়ে আমাদের জানা নেই। জেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরের মনিটরিং অফিসার শিব্বির আহমেদ এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও আরডিআরএস এর কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞ রুহুল আমিন এবং সম্পদ বিষয়ক ব্যবস্থাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসের ২৩ তারিখ থেকে সম্পদ হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ২শ’ জনের মতো উপকারভোগীকে ছাগল-ভেড়া-মুরগী দেওয়া হয়েছে। বেলগাছা ইউনিয়নে ছাগল মারা যাওয়ার কথা স্বীকার করে তারা বলেন, মারা যাওয়ার ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। কেন এই মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটলো আমরা বুঝতে পারছি না। আমরা খোয়াড় তৈরি, খাবার ও ছাগল ক্রয় দরপত্র আহবান করে ঠিকাদার নিয়োগ করেছি।
এ প্রসঙ্গে ভিজিডিইউপি’র ঢাকাস্থ প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোরশেদ আলম জানান, মালামাল ক্রয়ের জন্য প্রত্যেক উপজেলায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট ক্রয় কমিটি রয়েছে। এই কমিটি উপকারভোগীদের সাথে নিয়ে মালামাল ক্রয় করে হস্তান্তর করবেন। কুড়িগ্রামের অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হবে।



অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা,মনিটরিং
আমাদের সম্পর্কে
বাংলা অনলাইন দৈনিক-তালিকায় কুড়িগ্রাম নিউজ ডট কম-এর সফল অন্তর্ভুক্তিতে অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে আপনাকে স্বাগত জানাচ্ছি। আপনার দেখার সীমানাকে একটু বিস্তৃত করলেই আপনি পৌঁছে যাচ্ছেন গ্ল্যামার, উত্তেজনায় ঠাসা এক বিশ্বে। কিন্তু এই নিউজ-সাইটটির উদ্দেশ্য একটু ভিন্ন; একটি সুনির্দিষ্ট বার্তা আমরা সবার কাছে পৌঁছে দিতে চাই। আর তা হচ্ছে, হাজারো সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও কুড়িগ্রাম জেলাটি এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
কুড়িগ্রামের আসল চিত্র সম্পর্কে জানতে আমরা আপনাকে আমাদের সাইটটি ভিজিট করার অনুরোধ জানাচ্ছি। কুড়িগ্রামের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য আপনি যদি অন্তর্গত তাগিদ অনুভব করেন তবে আপনাকে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে আপনার সেই কাজটিই করতে অনুরোধ জানাচ্ছি। তাই কুড়িগ্রামের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে আপনার করণীয় পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
কুড়িগ্রাম সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সব সংবাদ পরিবেশনে স্থানীয় ও ঢাকাভিত্তিক জাতীয় দৈনিকসমূহের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অন্যদিকে আমরা চাই, কম সময়ে অনেক বেশি তথ্য। তা ছাড়া যুগের দাবি তো মানতেই হয়! তাই প্রথমবারের মতো কুড়িগ্রামে কোনো অনলাইন দৈনিক প্রকাশের জন্য আমরা তীব্র তাড়না অনুভব করি। যার ফলশ্র“তিতে কুড়িগ্রাম নিউজ ডট কমের আত্মপ্রকাশ।