হালকা অস্ত্র ও কুংফু প্রশিক্ষণ দেয়া হয় জামায়াত-শিবিরকর্মীদের
নিউজ ডেক্স:
জামায়াতের গোপন স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে সারাদেশের জামায়াত-শিবিরকর্মীদের হালকা অস্ত্র ও কুংফু প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ৬৪ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে জামায়াতের এ স্বাস্থ্য বিভাগ রয়েছে। পদাধিকারবলে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও ৬৪ জেলায় জেলা কমিটির সেক্রেটারি স্বাস্থ্য বিভাগ দেখাশোনা করে থাকেন। সীমান্ত এলাকায় জামায়াতের এ স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সময়ে জেএমবি জঙ্গিরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। গত মে মাসে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি প্রধান সাইদুর রহমান রিমান্ডে এসব তথ্য দিয়েছিলেন। গোয়েন্দারা এখন রিমান্ডে থাকা জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব বিষয়ের সত্যতা যাচাই করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জামায়াতের স্বাস্থ্য বিভাগ থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। তবে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের কথা অস্বীকার করে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাদের বলেছেন, জামায়াত ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলো বেশ সুসংগঠিত। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে সারাদেশের নেতাকর্মীদের শারীরিক কসরত ও বিভিন্ন ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে, যা দোষের কিছু নয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে জেএমবি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের কথাও অস্বীকার করেন বলে সূত্র জানায়। সূত্র আরো জানায়, জেএমবি প্রধান সাইদুর রহমান ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল জামায়াতের জন্মলগ্ন থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগ চালু রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালের আগ পর্যন্ত এ স্বাস্থ্য বিভাগ তালিমের ডাক নামে পরিচালিত হতো। ’৯৪ সালের শেষের দিকে সিলেট থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তা প্রত্যেক জেলা থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে গঠন করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণ আস্তানাও গড়ে তোলে জামায়াত। গোয়েন্দারা জেএমবি প্রধান সাইদুর রহমানের দেয়া তথ্য গত কয়েক মাস যাচাই-বাছাই করে এর অনেক ক্ষেত্রে সত্যতাও পেয়েছে বলে ওই সূত্রটি দাবি করে। গোয়েন্দা সূত্র মতে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে এ স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য দিলেও অনেক কিছুই চেপে যাচ্ছেন। জেএমবি প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমানকে মুজাহিদের মুখোমুখি করে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের চিন্তাভাবনা চলছে। এজন্য রাজধানীর কদমতলী থানার একটি মামলায় সাইদুর রহমানকে রিমান্ডে আনা হতে পারে বলেও জানা গেছে। এদিকে মুজাহিদ ও সাঈদীকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। গত ৩ দিন গোয়েন্দা কার্যালয়ে ওই দুই নেতাকে কখনো পৃথক এবং কখনো একত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র জানায়। বর্তমানে মুজাহিদ ও সাঈদীকে পল্টন থানার (হরতালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা) ও অপর একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মুজাহিদ ও সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেও গতকাল রাত থেকে এ মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর তাকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির গাড়ি বহরে হামলা ও পুলিশি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই শামসুর রহমান গতকাল জানান, রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলা সম্পর্কে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ ও নায়েবে আমির সাঈদী বলেছেন, রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলা চালানো তাদের কোনো নির্দেশ বা পরিকল্পনা ছিল না। ওই দিন পল্টন কালভার্ট রোডে তাদের বিক্ষোভ মিছিলের সময় ওই রাস্তা দিয়ে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর গেলে উত্তেজিত কর্মীরা স্ব-ইচ্ছায় তা করতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, এ ঘটনায় গতকাল বুধবার থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তারা হামলার বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও এ মামলায় নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীসহ জামায়াতের বেশ কয়েক নেতা হুকুমের আসামি হচ্ছেন বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান।নি
জামায়াতের গোপন স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে সারাদেশের জামায়াত-শিবিরকর্মীদের হালকা অস্ত্র ও কুংফু প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। ৬৪ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে জামায়াতের এ স্বাস্থ্য বিভাগ রয়েছে। পদাধিকারবলে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এ স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও ৬৪ জেলায় জেলা কমিটির সেক্রেটারি স্বাস্থ্য বিভাগ দেখাশোনা করে থাকেন। সীমান্ত এলাকায় জামায়াতের এ স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সময়ে জেএমবি জঙ্গিরাও প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। গত মে মাসে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জেএমবি প্রধান সাইদুর রহমান রিমান্ডে এসব তথ্য দিয়েছিলেন। গোয়েন্দারা এখন রিমান্ডে থাকা জামায়াতের শীর্ষ নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এসব বিষয়ের সত্যতা যাচাই করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জামায়াতের স্বাস্থ্য বিভাগ থাকার কথা স্বীকারও করেছেন। তবে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের কথা অস্বীকার করে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তাদের বলেছেন, জামায়াত ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনগুলো বেশ সুসংগঠিত। ফলে স্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে সারাদেশের নেতাকর্মীদের শারীরিক কসরত ও বিভিন্ন ব্যায়ামের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থাকে, যা দোষের কিছু নয়। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে জেএমবি জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের কথাও অস্বীকার করেন বলে সূত্র জানায়। সূত্র আরো জানায়, জেএমবি প্রধান সাইদুর রহমান ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল জামায়াতের জন্মলগ্ন থেকেই স্বাস্থ্য বিভাগ চালু রয়েছে। তবে ১৯৯৪ সালের আগ পর্যন্ত এ স্বাস্থ্য বিভাগ তালিমের ডাক নামে পরিচালিত হতো। ’৯৪ সালের শেষের দিকে সিলেট থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তা প্রত্যেক জেলা থেকে শুরু করে সীমান্ত এলাকাগুলোতে গঠন করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে পার্বত্য এলাকায় প্রশিক্ষণ আস্তানাও গড়ে তোলে জামায়াত। গোয়েন্দারা জেএমবি প্রধান সাইদুর রহমানের দেয়া তথ্য গত কয়েক মাস যাচাই-বাছাই করে এর অনেক ক্ষেত্রে সত্যতাও পেয়েছে বলে ওই সূত্রটি দাবি করে। গোয়েন্দা সূত্র মতে, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে এ স্বাস্থ্য বিভাগ সম্পর্কে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে বিচ্ছিন্ন কিছু তথ্য দিলেও অনেক কিছুই চেপে যাচ্ছেন। জেএমবি প্রধান মাওলানা সাইদুর রহমানকে মুজাহিদের মুখোমুখি করে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদের চিন্তাভাবনা চলছে। এজন্য রাজধানীর কদমতলী থানার একটি মামলায় সাইদুর রহমানকে রিমান্ডে আনা হতে পারে বলেও জানা গেছে। এদিকে মুজাহিদ ও সাঈদীকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় পল্টন থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ৩ দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হয়েছে। গত ৩ দিন গোয়েন্দা কার্যালয়ে ওই দুই নেতাকে কখনো পৃথক এবং কখনো একত্রে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র জানায়। বর্তমানে মুজাহিদ ও সাঈদীকে পল্টন থানার (হরতালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা) ও অপর একটি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মুজাহিদ ও সাঈদীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ হলেও গতকাল রাত থেকে এ মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর তাকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির গাড়ি বহরে হামলা ও পুলিশি কাজে বাধা দেয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই শামসুর রহমান গতকাল জানান, রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলা সম্পর্কে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মুজাহিদ ও নায়েবে আমির সাঈদী বলেছেন, রাষ্ট্রপতির গাড়িবহরে হামলা চালানো তাদের কোনো নির্দেশ বা পরিকল্পনা ছিল না। ওই দিন পল্টন কালভার্ট রোডে তাদের বিক্ষোভ মিছিলের সময় ওই রাস্তা দিয়ে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর গেলে উত্তেজিত কর্মীরা স্ব-ইচ্ছায় তা করতে পারে। তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো জানান, এ ঘটনায় গতকাল বুধবার থেকে মতিউর রহমান নিজামীকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। তারা হামলার বিষয়ে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করলেও এ মামলায় নিজামী, মুজাহিদ ও সাঈদীসহ জামায়াতের বেশ কয়েক নেতা হুকুমের আসামি হচ্ছেন বলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান।


