বিজ্ঞাপন



আর্কাইভ



আবহাওয়া: ঢাকা

আবছায়া 30°C আবছায়া
মঙ্গল বৃষ্টির সম্ভাবনা
33/26
বুধ ঝড়ের সম্ভাবনা
33/26
বৃহস্পতি ঝড়ের সম্ভাবনা
33/26

Added on এপ্রিল ২৯, ২০১০

দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কাজে লাগাতে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কাজে লাগাতে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা thumbnail

নিউজ আওয়ার্স বিডি ডেক্স:
দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কাজে লাগাতে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গত দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হলেও বিদ্যুতের একটি বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ জন্য একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন (রিজিওনাল পাওয়ার গ্রিড) এবং জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, বায়ো-ফুয়েল, বায়ু ও ফসিল ফুয়েলের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরো দু’টি প্রস্তাব দেন। এর একটি হচ্ছে আর্কটিক কাউন্সিলের আদলে হিমালয়ান কাউন্সিল এবং অপরটি আন্তর্জাতিক অভিযোজন এবং গবেষণা কেন্দ্র (আইএআরসি) গঠন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিযোজনের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি থাকায় আইএআরসির সদর দফতর ঢাকায় স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি। গতকাল বুধবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব দেন। জলবায়ু পরিবর্তনকে মূল প্রতিপাদ্য করে এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে থিম্পুর গ্র্যান্ড এসেম্বলি হলে গতকাল দুপুরে শুরু হয় শীর্ষ সম্মেলন। আজ থিম্পু ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। সার্কের পরবর্তী সম্মেলন হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া এখন অনেকদূর এগিয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে একটি দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজন ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। এ জন্যই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরাবরাহ গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, গতকাল থিম্পুতে উদ্বোধন হওয়া সার্ক উন্নয়ন তহবিল (এসডিএফ) সচিবালয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এ লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহের কাজটি করতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সার্কের নতুন সভাপতি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জিগমে ওয়াই থিনলে। অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বক্তব্য রাখেন। ব্যাপক করতালির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। তার আগে বক্তব্য রাখেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। সার্ক নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক উঞ্চতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে শুরু করেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মরুকরণ ও পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার বাংলাদেশ। ঘন ঘন সাইক্লোন ও বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আইএআরসি গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে এ অঞ্চলের দেশগুলো একে অন্যের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক তথ্য, প্রকৃতিবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ অন্যান্য বিষয় আদান-প্রদান করতে পারবে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে এবার সই হওয়া সার্ক কনভেনশন বাস্তবায়নেও আইএআরসি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে। কোপেনহেগেন সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোপ-১৫ এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি আশার সঞ্চার করেছে। এ বছরের শেষদিকে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য কোপ-১৬ সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোর জন্য তহবিল গঠনে উন্নত দেশগুলোকে সম্মত করতেই হবে। এক্ষেত্রে আর্কটিক কাউন্সিলের আদলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য হিমালয়ান কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে। সার্ক শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন কর্মপরিকল্পনা ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনায় ১৩৪টি একশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীগুলো যাতে অধিক পানি ধারণ করতে পারে সে জন্য বড় নদীগুলো খনন করার একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো করা হবে। এ ছাড়া গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সরকার একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে বনায়ন, উপকূলে সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ, বিশুদ্ধ কয়লা প্রযুক্তি, পারমাণবিক পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। সরকার অবশ্য নিজস্ব অর্থায়নেই একটি জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষিজমি ধীরে ধীরে কমে আসছে। যার ফলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। এ জন্য সরকার উচ্চফলনশীল বীজ, কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি সার্ক সিড ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব দেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এতে করে আমাদের নিজেদের মধ্যেই আস্থাহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং যে কোনো ধরনের ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত বাংলাদেশ তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি বাংলাদেশের মাটিকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সার্কের সফলতাকে নিরূপণ করা যাবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এ জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতকে অবাধ করতে হবে। অবশ্য এ জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসনও মেনে চলতে হবে। সার্কের মাধ্যমে আমাদের জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব। আমরা সার্কের মাধ্যমেই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী দক্ষিণ এশিয়া বিনির্মাণ করতে পারি। এ অঞ্চলের ১.৫ বিলিয়ন জনগণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনসংখ্যার বেশিরভাগই দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। এদের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দারিদ্র্যপীড়িত এ মানুষগুলোর জন্য সার্ক নেতৃবৃন্দকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরাই পারবো। এ জন্য প্রয়োজন কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত। আমার বিশ্বাস ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সার্ক দেশগুলোর জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে নতুন এক দুয়ার খুলে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুবই আনন্দের সংবাদ যে আমাদের ৮টি দেশেই এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। এটি এ অঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহাসিক উন্নয়ন। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি যে, গণতন্ত্র ছাড়া সত্যিকার অর্থে জনগণের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে এ জন্য আমাদের কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী, মজবুত ও সুসংহত করতে হবে। আমি মনে করি সার্ক সনদে এ মানসিকতা ধারণ করতে হবে। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধ চলাফেরা, পণ্য পরিবহন এবং মুক্ত চিন্তার বিনিময়ের স্বার্থে সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের হারানো ঐতিহ্য এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সুযোগ পাবো। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। তিনি সার্কের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকা-কে অর্ধপূর্ণ গ্লাসের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততাকে আমি গ্লাসের খালি অংশের সঙ্গে তুলনা করি। আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের ধীর প্রবাহে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে। তারপরও ব্যবসা-বাণিজ্য আশানুরূপ হারে বাড়ছে না। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক কম। তিনি এ ক্ষেত্রে সার্ক নেতৃবৃন্দকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে এ অঞ্চলে সম্প্রীতি এবং স্থিতিশীলতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক কারণে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে বহু বছর এ অঞ্চলের দেশগুলোতে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন হয়নি। তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে এসব দ্বন্দ্ব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে আশা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক ক্ষমতাধর এ দেশটির সঙ্গে অপর পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ ভারতের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তবে দেশে এবং দেশের বাইরে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সার্কের অন্য নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ দেশের পক্ষে আয়োজক ভুটানকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার মতো সার্ক একটি শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে পরিণত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে সার্কের ৮ দেশের ৮০০ প্রতিনিধি ছাড়াও সার্কের পর্যবেক্ষক অস্ট্রেলিয়া, চীন, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, মরিশাস, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সংবাদ সংগ্রহে সার্কের ৮ দেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০ সাংবাদিক এখন থিম্পুতে অবস্থান করছেন। শীর্ষ সম্মেলন শুরু : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার ৮ জাতির সংস্থা সার্কের শীর্ষ সম্মেলন। এতে যোগ দিতে মঙ্গলবারই থিম্পু পৌঁছান বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান। গতকাল বুধবার সকালে থিম্পু পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এবার সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। এ বছর সার্কের ২৫ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে থিম্পুকে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় আড়াইটায় থিম্পুর গ্র্যান্ড এসেম্বলি হলে শুরু হয় ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। এর উদ্বোধন করেন সার্কের বিদায়ী সভাপতি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। সম্মেলনে এ বছরের শেষ দিকে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে সার্কের পর্যবেক্ষক মর্যাদা পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হবে। ১৯৮৫ সালে গঠনের পর সার্ক এ অঞ্চলের ১.৫ বিলিয়ন জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল দুপুরে শুরু হওয়া সার্ক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে এবারের থিম্পু সম্মেলনকে দেখতে চান। উদ্বোধনী অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং প্রথমে বক্তব্য দেন। আর সবশেষে বিকাল ৪টায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব রাষ্ট্রপ্রধানকে বক্তব্য দেয়ার জন্য ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কমিটি গঠনের প্রস্তাব : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব উঠছে ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে। শীর্ষ নেতারা সম্মত হলে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি আসবে বলে থিম্পু থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে। থিম্পুতে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস জানিয়েছেন, বর্তমানে সার্ক পরিবেশ কমিটি নামের একটি কমিটি কাজ করেছ। থিম্পু স্টেটমেন্ট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ শীর্ষক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ বিষয়ক আলোচনায় সার্ককে আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে ভূমিকা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। সম্মেলনের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার সার্ক ঘোষণার সঙ্গেই ওই কমিটি গঠনের বিবৃতি আসতে পারে বলে মিজারুল কায়েস সাংবাদিকদের জানান। সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটির কার্যকর হলে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গঠিত অভিযোজন তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে দর কষাকষিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অবস্থান শক্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সার্ক অঞ্চলে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি বিষয়ে একটি গবেষণা চালানোর জন্য সার্কের মহাসচিবকে ক্ষমতা দেয়া হবে। থিম্পুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে মন্ত্রিপর্যায়ের এক বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (সার্ক) সফিউর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পেতে হলে সার্ক দেশগুলোতে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আর সে স্বীকৃতি আদায় করতেই এ বিবৃতি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জলবায়ু বিষয়ে থিম্পু বিবৃতিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সার্ক অঞ্চলের তিনটি ভূমিরূপÑ পার্বত্য এলাকা, মৌসুমি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা এবং সমুদ্র এলাকা রক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সন্ত্রাসবাদকে শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেন। গতকাল বুধবার থিম্পুতে বাংলাদেশ ভিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ থেকে মুক্ত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। এরই মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোধ করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল পানির নিচে ডুবতে শুরু করেছে। সেখানকার অধিবাসীরা এখন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে। অবশ্য সরকার এ সমস্যার অভিযোজন কর্মসূচির আওতায় দেশের বড় বড় নদীগুলোতে খনন কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া সরকারের তরফ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্র্ণ করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তার সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন দফায় সারের দাম কমানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থায় যাতে কোনো ঘাটতি না হয় সেজন্য সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের নেয়া এসব কর্মসূচির ব্যাপক প্রশংসা করেন রবার্ট ব্লেক। তিনি কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভূমিকারও প্রশংসা করেন। এ সময় তারা জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা করেন। আলোচনার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়া উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম এ করিম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং উপ-প্রেস সচিব মাহবুবুল আলম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।নিউ
দক্ষিণ এশিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কাজে লাগাতে একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গত দশকে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হলেও বিদ্যুতের একটি বড় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ জন্য একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন (রিজিওনাল পাওয়ার গ্রিড) এবং জলবিদ্যুৎ, সৌরশক্তি, বায়ো-ফুয়েল, বায়ু ও ফসিল ফুয়েলের মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আরো দু’টি প্রস্তাব দেন। এর একটি হচ্ছে আর্কটিক কাউন্সিলের আদলে হিমালয়ান কাউন্সিল এবং অপরটি আন্তর্জাতিক অভিযোজন এবং গবেষণা কেন্দ্র (আইএআরসি) গঠন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অভিযোজনের অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি থাকায় আইএআরসির সদর দফতর ঢাকায় স্থাপনের পরামর্শ দেন তিনি। গতকাল বুধবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রস্তাব দেন। জলবায়ু পরিবর্তনকে মূল প্রতিপাদ্য করে এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে থিম্পুর গ্র্যান্ড এসেম্বলি হলে গতকাল দুপুরে শুরু হয় শীর্ষ সম্মেলন। আজ থিম্পু ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। সার্কের পরবর্তী সম্মেলন হবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া এখন অনেকদূর এগিয়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে একটি দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রয়োজন ব্যাপকভাবে দেখা দিচ্ছে। এ জন্যই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরাবরাহ গ্রিড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, গতকাল থিম্পুতে উদ্বোধন হওয়া সার্ক উন্নয়ন তহবিল (এসডিএফ) সচিবালয় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে এ লক্ষ্যে তহবিল সংগ্রহের কাজটি করতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সার্কের নতুন সভাপতি ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী জিগমে ওয়াই থিনলে। অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বক্তব্য রাখেন। ব্যাপক করতালির মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনাকে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। তার আগে বক্তব্য রাখেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। সার্ক নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্য করে শেখ হাসিনা বলেন, বৈশ্বিক উঞ্চতা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের দেশগুলোতে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে হিমালয়ের হিমবাহ গলতে শুরু করেছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মরুকরণ ও পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার বাংলাদেশ। ঘন ঘন সাইক্লোন ও বন্যার প্রভাবে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। আইএআরসি গঠনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি প্রতিষ্ঠা করা গেলে এ অঞ্চলের দেশগুলো একে অন্যের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক তথ্য, প্রকৃতিবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ অন্যান্য বিষয় আদান-প্রদান করতে পারবে। এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে এবার সই হওয়া সার্ক কনভেনশন বাস্তবায়নেও আইএআরসি ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে। কোপেনহেগেন সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোপ-১৫ এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি আশার সঞ্চার করেছে। এ বছরের শেষদিকে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য কোপ-১৬ সম্মেলনে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস এবং উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোর জন্য তহবিল গঠনে উন্নত দেশগুলোকে সম্মত করতেই হবে। এক্ষেত্রে আর্কটিক কাউন্সিলের আদলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য হিমালয়ান কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে। সার্ক শীর্ষ নেতাদের এ বৈঠকে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ জাতীয় অভিযোজন কর্মপরিকল্পনা ও বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনায় ১৩৪টি একশন প্ল্যান গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং নদীগুলো যাতে অধিক পানি ধারণ করতে পারে সে জন্য বড় নদীগুলো খনন করার একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪ হাজার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো করা হবে। এ ছাড়া গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাসে সরকার একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। একইসঙ্গে বনায়ন, উপকূলে সবুজ বেষ্টনী নির্মাণ, বিশুদ্ধ কয়লা প্রযুক্তি, পারমাণবিক পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারেরও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য প্রয়োজন প্রচুর অর্থের। সরকার অবশ্য নিজস্ব অর্থায়নেই একটি জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের কৃষিজমি ধীরে ধীরে কমে আসছে। যার ফলে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। এ জন্য সরকার উচ্চফলনশীল বীজ, কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ এবং উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য একটি সার্ক সিড ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব দেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগের ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, এতে করে আমাদের নিজেদের মধ্যেই আস্থাহীনতা সৃষ্টি হচ্ছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ এবং যে কোনো ধরনের ধর্মীয় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। আমরা সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই, ইসলামের নামে যারা সন্ত্রাসী কার্যকলাপে লিপ্ত বাংলাদেশ তাদের বিরুদ্ধে। এমনকি বাংলাদেশের মাটিকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এ অঞ্চলের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সার্কের সফলতাকে নিরূপণ করা যাবে। পর্যটন শিল্পের বিকাশকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এ জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর জনগণের এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতকে অবাধ করতে হবে। অবশ্য এ জন্য প্রয়োজনীয় অভিবাসনও মেনে চলতে হবে। সার্কের মাধ্যমে আমাদের জনগণের আস্থা অর্জন সম্ভব। আমরা সার্কের মাধ্যমেই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধিশালী দক্ষিণ এশিয়া বিনির্মাণ করতে পারি। এ অঞ্চলের ১.৫ বিলিয়ন জনগণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের জনসংখ্যার বেশিরভাগই দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। এদের জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। দারিদ্র্যপীড়িত এ মানুষগুলোর জন্য সার্ক নেতৃবৃন্দকে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি আমরাই পারবো। এ জন্য প্রয়োজন কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত। আমার বিশ্বাস ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সার্ক দেশগুলোর জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে নতুন এক দুয়ার খুলে যাবে। দক্ষিণ এশিয়ায় এখন গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, এটা খুবই আনন্দের সংবাদ যে আমাদের ৮টি দেশেই এখন নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। এটি এ অঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহাসিক উন্নয়ন। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা বলতে পারি যে, গণতন্ত্র ছাড়া সত্যিকার অর্থে জনগণের উন্নয়ন সম্ভব নয়। তবে এ জন্য আমাদের কষ্টে অর্জিত গণতন্ত্রকে দীর্ঘস্থায়ী, মজবুত ও সুসংহত করতে হবে। আমি মনে করি সার্ক সনদে এ মানসিকতা ধারণ করতে হবে। এদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জনগণের এক দেশ থেকে অন্য দেশে অবাধ চলাফেরা, পণ্য পরিবহন এবং মুক্ত চিন্তার বিনিময়ের স্বার্থে সদস্য দেশগুলোর সহযোগিতার আহ্বান জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আমরা আমাদের হারানো ঐতিহ্য এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের সুযোগ পাবো। সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন। তিনি সার্কের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মকা-কে অর্ধপূর্ণ গ্লাসের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততাকে আমি গ্লাসের খালি অংশের সঙ্গে তুলনা করি। আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের ধীর প্রবাহে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যোগাযোগের মাধ্যম বেড়েছে। তারপরও ব্যবসা-বাণিজ্য আশানুরূপ হারে বাড়ছে না। পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ অনেক কম। তিনি এ ক্ষেত্রে সার্ক নেতৃবৃন্দকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ ইউসুফ রাজা গিলানি দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণের লক্ষ্যে এ অঞ্চলে সম্প্রীতি এবং স্থিতিশীলতার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক কারণে সৃষ্ট দ্বন্দ্বে বহু বছর এ অঞ্চলের দেশগুলোতে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন হয়নি। তবে সার্কভুক্ত দেশগুলোতে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে এসব দ্বন্দ্ব কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলে আশা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ এশিয়ার পারমাণবিক ক্ষমতাধর এ দেশটির সঙ্গে অপর পারমাণবিক ক্ষমতাধর দেশ ভারতের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। তবে দেশে এবং দেশের বাইরে এ অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এ অঞ্চলে সত্যিকার অর্থে উন্নয়ন সম্ভব বলে মনে করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। সার্কের অন্য নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ দেশের পক্ষে আয়োজক ভুটানকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার মতো সার্ক একটি শক্তিশালী সংস্থা হিসেবে পরিণত করতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে সার্কের ৮ দেশের ৮০০ প্রতিনিধি ছাড়াও সার্কের পর্যবেক্ষক অস্ট্রেলিয়া, চীন, ইরান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মিয়ানমার, মরিশাস, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের সংবাদ সংগ্রহে সার্কের ৮ দেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রায় ৩০০ সাংবাদিক এখন থিম্পুতে অবস্থান করছেন। শীর্ষ সম্মেলন শুরু : ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে গতকাল বুধবার ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে শুরু হয় দক্ষিণ এশিয়ার ৮ জাতির সংস্থা সার্কের শীর্ষ সম্মেলন। এতে যোগ দিতে মঙ্গলবারই থিম্পু পৌঁছান বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান। গতকাল বুধবার সকালে থিম্পু পৌঁছান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এবার সার্ক শীর্ষ সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন। এ বছর সার্কের ২৫ বছর পূর্তি হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে থিম্পুকে অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ সময় আড়াইটায় থিম্পুর গ্র্যান্ড এসেম্বলি হলে শুরু হয় ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। এর উদ্বোধন করেন সার্কের বিদায়ী সভাপতি শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে। সম্মেলনে এ বছরের শেষ দিকে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে সার্কের পর্যবেক্ষক মর্যাদা পাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হবে। ১৯৮৫ সালে গঠনের পর সার্ক এ অঞ্চলের ১.৫ বিলিয়ন জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। গতকাল দুপুরে শুরু হওয়া সার্ক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে এবারের থিম্পু সম্মেলনকে দেখতে চান। উদ্বোধনী অধিবেশনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং প্রথমে বক্তব্য দেন। আর সবশেষে বিকাল ৪টায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সব রাষ্ট্রপ্রধানকে বক্তব্য দেয়ার জন্য ১০ মিনিট সময় বেঁধে দেয়া হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কমিটি গঠনের প্রস্তাব : জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব উঠছে ১৬তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে। শীর্ষ নেতারা সম্মত হলে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি আসবে বলে থিম্পু থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে। থিম্পুতে সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস জানিয়েছেন, বর্তমানে সার্ক পরিবেশ কমিটি নামের একটি কমিটি কাজ করেছ। থিম্পু স্টেটমেন্ট অন ক্লাইমেট চেঞ্জ শীর্ষক প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রস্তাবিত কমিটি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ বিষয়ক আলোচনায় সার্ককে আঞ্চলিক সংস্থা হিসেবে ভূমিকা নেয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। সম্মেলনের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার সার্ক ঘোষণার সঙ্গেই ওই কমিটি গঠনের বিবৃতি আসতে পারে বলে মিজারুল কায়েস সাংবাদিকদের জানান। সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটির কার্যকর হলে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গঠিত অভিযোজন তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে দর কষাকষিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর অবস্থান শক্ত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সার্ক অঞ্চলে সৃষ্ট বিভিন্ন ঝুঁকি বিষয়ে একটি গবেষণা চালানোর জন্য সার্কের মহাসচিবকে ক্ষমতা দেয়া হবে। থিম্পুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে মন্ত্রিপর্যায়ের এক বৈঠকের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (সার্ক) সফিউর রহমান বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থ পেতে হলে সার্ক দেশগুলোতে এক হয়ে কাজ করতে হবে। আর সে স্বীকৃতি আদায় করতেই এ বিবৃতি। এ ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, জলবায়ু বিষয়ে থিম্পু বিবৃতিতে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সার্ক অঞ্চলের তিনটি ভূমিরূপÑ পার্বত্য এলাকা, মৌসুমি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা এবং সমুদ্র এলাকা রক্ষার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ : সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সন্ত্রাসবাদকে শান্তি ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেন। গতকাল বুধবার থিম্পুতে বাংলাদেশ ভিলায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ থেকে মুক্ত হলে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুটিকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ ও মালদ্বীপ। এরই মধ্যে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বোধ করতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল পানির নিচে ডুবতে শুরু করেছে। সেখানকার অধিবাসীরা এখন অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্যে আছে। অবশ্য সরকার এ সমস্যার অভিযোজন কর্মসূচির আওতায় দেশের বড় বড় নদীগুলোতে খনন কাজ শুরু করেছে। এ ছাড়া সরকারের তরফ থেকে জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগও নেয়া হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্র্ণ করতে সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তার সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তিন দফায় সারের দাম কমানো হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি জমিতে সেচ ব্যবস্থায় যাতে কোনো ঘাটতি না হয় সেজন্য সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের নেয়া এসব কর্মসূচির ব্যাপক প্রশংসা করেন রবার্ট ব্লেক। তিনি কোপেনহেগেন জলবায়ু সম্মেলনে শেখ হাসিনার ভূমিকারও প্রশংসা করেন। এ সময় তারা জাতিসংঘে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা করেন। আলোচনার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এম্বাসেডর এট লার্জ এম জিয়া উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম এ করিম, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ এবং উপ-প্রেস সচিব মাহবুবুল আলম শাকিল উপস্থিত ছিলেন।









এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ


সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম

এ সম্পর্কিত খবর

নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধি thumbnail নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধি

নিউজ আওয়াস বিডি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ১৬ জনের সলিল সমাধি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী বাজারের লোকজনের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় ট্রলারের অবশিষ্ট ৯০ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেলেও এদের মধ্যে আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী শৈলচাপড়া হাওরে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
এরা হলো- [...]

আরও খবর

২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ thumbnail ২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

অর্থনীতি

অর্থনীতি অর্থনীতি সম্পর্কিত খবর

চিঠিপত্র

চিঠিপত্র পাঠকের চিঠি

আরও সংবাদ শিরোনাম