বিজ্ঞাপন



আর্কাইভ



আবহাওয়া: ঢাকা

বেশিরভাগ মেঘলা 32°C বেশিরভাগ মেঘলা
শুক্র ঝড়ের সম্ভাবনা
32/26
শনি ঝড়ের সম্ভাবনা
33/26
রবি ঝড়ের সম্ভাবনা
33/26

Added on এপ্রিল ২৯, ২০১০

বাড়ছে গুপ্তহত্যা: ঘাতক ধরা ছোঁয়ার বাইরে: হত্যা রহস্য অনুদঘাটিতই থাকছে

বাড়ছে গুপ্তহত্যা: ঘাতক ধরা ছোঁয়ার বাইরে: হত্যা রহস্য অনুদঘাটিতই থাকছে thumbnail

নিউজ আওয়ার্স বিডি:
ঢাকায় গুপ্তঘাতকদের হাতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ছয়জন খুন হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অপহরণের পর তাদের খুন করে নির্জন স্থানে লাশ ফেলে রাখা হচ্ছে। কে বা কারা তাদের নৃশংসভাবে হত্যা করেছে এ ব্যাপারে র‌্যাব ও পুলিশ কোনো কিনারা করতে পারেনি। তবে তাদের নিকটাত্মীয় স্বজনদের অভিযোগ, র‌্যাব ও পুলিশ ক্রসফায়ারের দুর্নাম থেকে দূরে থাকতে তারা গুপ্তহত্যা শুরু করেছে। আর এ কারণেই এসব হত্যারহস্য অনুদ্ঘাটিত থেকে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানালেও গুপ্তঘাতকের হাতে একের পর এক খুনের ঘটনার কথা স্বীকার করে তারা বলছেন, প্রতিপক্ষের শত্রুর হাতেই এসব নৃশংস ঘটনা ঘটছে। এক এলাকা থেকে অপহরণ করে এনে অন্য এলাকায় হত্যা করায় তারা খুনিদের চিহ্নিত করতে পারছে না।
তবে এ ধরনের গুপ্তহত্যার ঘটনাকে ‘অশনি সঙ্কেত’ বলে মন্তব্য করেছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশজুড়ে চরম অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। তাতে ভিআইপিদেরও নিরাপত্তা বিঘিœত হবে। তাই খুনি যে-ই হোক না কেন, তাকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের মুখোমুখি করতে হবে। তা না হলে গুপ্তহত্যার সংখ্যা দিনে দিনে বাড়তে থাকবে।
সোমবার রাজধানীর পল্লবী বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে শহীদুল্লাহ নামে এক জুট ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা রিয়েল এস্টেটের একটি নির্জন স্থান থেকে একই গর্ত থেকে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ১৮ এপ্রিল গাজীপুর থেকে পুলিশ নারায়ণগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী নূরুল আমিন মাকসুদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। কারওয়ান বাজারের শীর্ষ সন্ত্রাসী সাইদুলকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়েছে বলে তার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তার এক নিকটাত্মীয় বলেছেন, পহেলা বৈশাখ রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে।
সোমবার পল্লবীর বাসিন্দা বৃদ্ধা শাহেলা খাতুন তার নাতির খোঁজে মর্গে আসেন। তিনি জানান, ২১ ফেব্রুয়ারি কে বা কারা তার নাতি জহিরুলকে কালাপানির বস্তি থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শাহেলা খাতুনের ভাষ্য, রোববার অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তি তাকে জানিয়েছে, জহিরুলকে মেরে ফেলা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীর দোলাইরপাড় এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহিম ভূঁইয়া তার সন্ত্রাসীপুত্র আল-আমিনের খোঁজে কয়েকদিন ধরে মিটফোর্ড ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ এবং নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরছেন। ধরনা দিচ্ছেন র‌্যাব ও পুলিশের কাছে। তার ভাষ্য, তার ছেলেকে ১৪ এপ্রিল দুপুরে বাসার সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাসে কে বা কারা তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে আল-আমিন নিখোঁজ। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিতে ইব্রাহিম ভূঁইয়া জানান, অপহরণকারীদের দেহের গড়ন ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মতো। ছেলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অর্ধডজন মামলা রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন।
আমাদের মেডিকেল প্রতিনিধিরা জানান, দুই সপ্তাহ ধরে প্রায় প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছেলে, স্বামী বা নিকটাত্মীয়ের লাশের সন্ধানে মিটফোর্ড ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে আসছেন। নিখোঁজ নিকটাত্মীয়দের খোঁজে ভিড় বাড়ছে র‌্যাব কার্যালয়, থানা ও ফাঁড়িতে।
রাজধানীর পল্লবীতে শহীদুল্লাহ (৩০) নামে এক ব্যক্তি গুপ্তহত্যার শিকার হন। সোমবার দুপুরে পল্লবীর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। তার বুক ও মুখে গুলির তিনটি চিহ্ন রয়েছে। আত্মীয়স্বজনদের অভিযোগ, পহেলা বৈশাখ র‌্যাবের গোয়েন্দারা তাকে আটক করে। র‌্যাব তাকে ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেছে বলে পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ। তবে পুলিশ জানায়, এ ব্যাপারে তারা কিছুই জানে না। তবে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত শহীদুল্লাহর স্ত্রী রানী বেগম জানান, পহেলা বৈশাখ স্বামী-স্ত্রী মোটরসাইকেলে সাভারের হেমায়েতপুর থেকে রমনা বটমূলে এসেছিলেন। সারাদিন ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে রাতে বাড়ি যাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১২টায় তারা আমিনবাজার ব্রিজের কাছে এলে সাদা ও লাল রঙের দুটি গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। গাড়ি থেকে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন লোক তাদের দুজনকে আটক করে নিয়ে যায়। সাভারের গোল্লারপুর তালতলা এলাকায় নিয়ে আটককারীরা নিজেদের র‌্যাব সদস্য দাবি করে শহীদুল্লাহকে রেখে তাকে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শহীদুল। একটি গাড়িতে র‌্যাব-৪ লেখা ছিল বলে রানী দাবি করেছেন।
এদিকে গুপ্তঘাতকের হাতে খুন হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী তরুণ লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নূরুল আমিন মাকসুদ। ১৮ এপ্রিল সকালে ঢাকার গাজীপুর উপজেলার পুবাইল এলাকা থেকে মাকসুদের গুলিবিদ্ধ ও দুই হাত ভাঙা লাশ উদ্ধার করা হয়। অজ্ঞাত আততায়ীরা মাকসুদকে হত্যা করে লাশ ওই স্থানে ফেলে রাখে। তবে তাকে কে বা কারা হত্যা করেছে সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। তবে মাকসুদের পরিবারের অভিযোগ, ১৭ এপ্রিল রাতে র‌্যাব তাকে অপহরণ করে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার বিশ্বাস আফজাল হোসেন বলেন, গুপ্তঘাতকের হাতে মাকসুদ খুন হয়েছে। তাকে কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে এখনো এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মাকসুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় ১২টি মামলা ছিল। তার শত্রুপক্ষ তাকে খুন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মাকসুদকে অপহরণের সময় তার সঙ্গীয় তরুণ লীগের নেতা মোসলেহউদ্দিন মশু জানিয়েছেন, শনিবার রাতে র‌্যাডিসন হোটেলের সামনে দুটি সাদা নিসান মাইক্রোবাস তাদের প্রাইভেট কারটির গতিরোধ করে। এ সময় মাইক্রোবাসের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে এবং নিজেদের র‌্যাবের সদস্য পরিচয় দেয়। অস্ত্রধারীরা তাকে বেধড়ক লাঠিপেটা করে রাস্তায় ফেলে মাকসুদকে নিয়ে চলে যায়।
মঙ্গলবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাধীন তুরাগ তীরে একই গর্ত থেকে মিজান জমাদ্দার (৪০), ফোরকান (২৭) ও মুরাদ (৩০) নামে তিন যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মিজানের বাড়ি ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি গ্রামে, ফোরকান ও মুরাদের বাড়ি একই থানার বদরপুর এবং পারসাতুরিয়া গ্রামে। গতকাল নিহত তিনজনের আত্মীয়স্বজনরা মর্গে এসে তাদের লাশ শনাক্ত করেন।
গতকাল হাসপাতালের মর্গে লাশ শনাক্ত করতে এসে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা জানান, ১৪ এপ্রিল মিজান, ফোরকান ও মুরাদ এলাকার একটি খুনের মামলার কাজে ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় আসে। ১৭ এপ্রিল র‌্যাব পরিচয়ে উত্তরা থেকে ফোরকান ও মুরাদকে এবং কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে মিজানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তিনজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার সকালে তুরাগ তীর থেকে তিনটি লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে হাসপাতালের মর্গে এসে নিকটাত্মীয়রা লাশ শনাক্ত করেন।
হাসপাতালের মর্গে মিজানের মা রাজিয়া বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, ২০০৫ সালে স্থানীয় সন্ত্রাসী ঠা-ু, সিদ্দিক ও জাকিরসহ তাদের সহযোগীরা তার বড় ছেলে জামাল ওরফে বাবু মোল্লাকে হত্যা করে। পরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সন্ত্রাসীদের যাবজ্জীবন কারাদ- হলে কয়েক মাস আগে হাইকোর্টে আপিল করে তারা আবার জামিন নিয়ে বেরিয়ে আসে। জেল থেকে ফিরে সন্ত্রাসীরা তাদের হত্যা ও হামলা-মামলার হুমকি দিতে থাকে। পরে পাশের পিরোজপুর জেলার কাউখালী থানা এলাকায় একটি হত্যা মামলায় ওই আসামিরা তার ছেলে মিজান এবং তার বন্ধু মুরাদ ও ফোরকানকে হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। ওই মামলার কাজেই তারা তিন বন্ধু একসঙ্গে ঢাকায় এসেছিল।
নিহত মিজানের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, সন্ত্রাসীরা মিজান ও তার দুই বন্ধুকে অপহরণ করার পর তাদের কাছে প্রথমে ৪০ লাখ টাকা দাবি করে। এক পর্যায়ে তারা ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তি দিতে রাজি হয়। এর আগে ১৭ এপ্রিল অপহরণের দিনই তিনি বাড্ডা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন।
এদিকে স্থানীয় সূত্র জানায়, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর থানার সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠি গ্রামের বেলায়েত জমাদ্দারের ছেলে মিজান সুন্দরবনের দস্যু ও দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনী মিজান-মোর্শেদ বাহিনীর প্রধান। অন্য দুজনের মধ্যে মুরাদ রাজাপুর পারসাতুরিয়া গ্রামের মৃত আলহাজ ফজলুর রহমান খানের ছেলে। সে স্বরূপকাঠি উপজেলার সেঙ্গল গ্রামের আইনজীবী গিয়াসউদ্দিন আল মাসুদ হত্যা মামলার আসামি ও যুবকের অর্থ আত্মসাৎসহ বহু ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ফোরকান রাজাপুর উপজেলার বদরপুর গ্রামের নুরুল ইসলাম হাওলাদারের ছেলে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালে মিজান-মোর্শেদ বাহিনীর উত্থান হয়। এরা তখন সুন্দরবনে একটি ডাকাতচক্রের নেতৃত্ব দিতো। এ সময় তাদের সঙ্গে নৌবাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এরপর নৌবাহিনীর সদস্যরা তাদের ভারী অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। কয়েক বছর জেলে থাকার পর জামিনে ছাড়া পায়। ২০০১ সালে স্থানীয় এক এমপির শেল্টারে তারা খুলনা থেকে সুন্দরবনের পূর্বপরিচিত রুট ধরে নৌপথে মাদকদ্রব্য এনে সাতুরিয়া ইউনিয়নে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। পাশাপাশি একই রুটে অস্ত্র এনে মিজান-মোর্শেদ দুই ভাই নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলে।
বিভিন্ন সময়ে র‌্যাব তাকে ধরতে দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালায়। মিজানকে ধরতে মার্চে র‌্যাব নৈকাঠিতে তার শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয়। তবে আগাম খবর পেয়ে মিজান আগেভাগেই সরে পড়ে। তবে র‌্যাব মিজানের চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার এবং মিজানের জার্মানির তৈরি দুটি অত্যাধুনিক রিভলবার উদ্ধার করে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি ভুইয়া মাহবুব হাসান যায়যায়দিনকে বলেন, কে বা কারা নৃশংস এ হত্যাকা- ঘটিয়ে তিন যুবকের লাশ এক গর্তে পুঁতে রেখে গেছে তা এখনো উদ্ঘাটন করা যায়নি। রহস্য উদ্ঘাটনে র‌্যাব ও পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে। নিহতদের গ্রামের বাড়িতে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি চলছে।
র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, গুপ্তহত্যার রিউমার ছড়িয়ে একটি চক্র দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই চক্র শীর্ষ রাজনীতিকসহ ভিআইপিদের হত্যাযজ্ঞের পরিকল্পনা করছে কি না তা খতিয়ে দেখতে একাধিক গোয়েন্দা টিম মাঠে নেমেছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে হামলা ও নাশকতার আশঙ্কায় অস্থিতিশীল গোটা দেশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা জারি করা হলেও জনমনে আতঙ্ক কাটেনি। উদ্বিগ্ন প্রধানমন্ত্রীও এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে দিনে দিনে গুপ্তহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দেশের জন্য অশনি সঙ্কেত। এ পরিস্থিতি এখনি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অপশক্তিচক্র আকস্মিক ভিআইপি মহলে হত্যাযজ্ঞ চালালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হবে। এসব ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি বা চরমপন্থী সংগঠনের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা দ্রুত খুঁজে বের করার পরামর্শ দিয়েছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।
এদিকে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছে নামে-বেনামে ব্যক্তি ও সংগঠনের নামে কয়েক মাস ধরে যেসব হুমকি দেয়া হচ্ছে তা ভিত্তিহীন নয়। তবে তারা এসব হুমকির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি একদিকে নিয়ে অন্যদিকে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা। জনবহুল স্পটে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেও সরকারকে সতর্ক করা হয়েছে। গার্মেন্ট সেক্টর, পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের জনবিস্ফোরণকেও নাশকতায় টার্ন করার ষড়যন্ত্রেরও আশঙ্কা করছেন গোয়েন্দারা।
পুলিশপ্রধান আইজি নূর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, যুদ্ধাপরাধের বিচারকে কেন্দ্র করে তাদের পক্ষাবলম্বনকারী দেশি-বিদেশি অপশক্তি ও মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠনগুলো হামলা-নাশকতা ঘটাতে পারে এমন আশঙ্কায় সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করার প্রস্তুতি তাদের রয়েছে।
তবে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশজুড়ে যেসব আলামত দেখা দিচ্ছে তাতে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। এ পরিস্থিতি সামাল দেয়া সরকারের পক্ষে কঠিন হবে। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য, চোরাগুপ্তা হামলা ঠেকানো গোয়েন্দা সংস্থা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।









এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ


সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম

এ সম্পর্কিত খবর

নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধি thumbnail নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধি

নিউজ আওয়াস বিডি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ১৬ জনের সলিল সমাধি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী বাজারের লোকজনের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় ট্রলারের অবশিষ্ট ৯০ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেলেও এদের মধ্যে আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী শৈলচাপড়া হাওরে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
এরা হলো- [...]

আরও খবর

২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ thumbnail ২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

অর্থনীতি

অর্থনীতি অর্থনীতি সম্পর্কিত খবর

চিঠিপত্র

চিঠিপত্র পাঠকের চিঠি

আরও সংবাদ শিরোনাম