বিজ্ঞাপন
আর্কাইভ
আবহাওয়া: ঢাকা



Added on মে ১৩, ২০১০
নিউজ আওয়ার্স বিডি ডেক্স:
ক্রসফায়ারে মৃত্যুর তালিকা দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্তমান মহাজোট সরকারের মাত্র ১৫ মাসে বিচারবহির্ভূত এ হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে ২১৩ জন। একই সময় র্যাব-পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর গুলিতে আহত হয়েছে আরো তিন শতাধিক। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে মাত্র পৌনে এক ঘণ্টায় কথিত ক্রসফায়ারে চারজনকে হত্যার মধ্য দিয়ে অতীতের সব রেকর্ড ভাঙা হয়েছে।
একের পর এক বিচারবহির্ভূত নৃশংস এ হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে দেশের সর্বোচ্চ আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোসহ বিভিন্ন মহল কথিত ক্রসফায়ার বন্ধে দেশে-বিদেশে সোচ্চার হয়ে উঠেছে। তবে এসবকে অগ্রাহ্য করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ অপকর্মকে সরকার নীরবে সমর্থন করছে বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। তারা বলছে, ক্রসফায়ার বন্ধের অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকার এখন বিচার ও মানবাধিকার বহির্ভূত এ হত্যাকা-ের ঘাতকদের উস্কে দিচ্ছে।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পেশাদার সন্ত্রাসী, চরমপন্থী ও জঙ্গিসহ চিহ্নিত অপরাধীরা মাঠে নেমে পড়ে। এতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার সেই পুরনো বিতর্কিত পদ্ধতিকেই বেছে নেয়। ক্রসফায়ারকে পুঁজি করে ভেঙে পড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।
পৌনে এক ঘণ্টায় চারজন নিহত : বুধবার ভোররাতে ঢাকায় র্যাবের সঙ্গে ক্রসফায়ারে সুমন (২৮) ও আলাউদ্দিন (২৭) নামে দুই যুবক নিহত হয়। র্যাবের দাবি তারা দুইজনই শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত শহীদের সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে শ্যামপুরসহ ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
র্যাব ১২-এর সহকারী পরিচালক ডিএম এনামুল কবির জানান, গে-ারিয়ায় র্যাবের একটি দল টহল দেয়ার সময় রাত ৩টার দিকে গুলির শব্দ পেয়ে গে-ারিয়া স্কুলের পেছনে আলবার্টো মাঠে যায়। সেখানে সাত-আটজন যুবক বসে ছিল। র্যাবকে দেখে তারা গুলি ছুড়লে র্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালায়। প্রায় ১৫ মিনিট গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে সুমন ও আলাউদ্দিনের লাশ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি রিভলবার ও কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান র্যাবের সহকারী পরিচালক এনামুল।
এদিকে রাজধানীর পল্লবীতে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ডিবি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে রাহাত (২৮) নামে এক যুবক। গোয়েন্দাদের দাবি, নিহত রাহাত রমনা থানার এএসআই মিজান ও এটিএন বাংলার ক্যামেরাম্যান শফিকুল ইসলাম মিঠু হত্যাকা-ের মূল হোতা।
ডিবি পুলিশের ভাষ্য, মির্জাপুর থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার তারা সুজন (২৩) ও রাজু ওরফে জামাই রাজুকে (২২) গ্রেপ্তার করে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এএসআই মিজান ও এটিএনের ক্যামেরাম্যান মিঠু হত্যাকা-ে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার (ঢাকা-মেট্রো-চ-১১-২৮৪৭) ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে মঙ্গলবার রাত পৌনে ৪টার দিকে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালায়।
ডিবির ভাষ্য, হত্যা কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কারটি দেখে তারা পিছু নেয়। এ সময় প্রাইভেট কারটি দ্রুত পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিংয়ের বেড়িবাঁধের দিকে যায় এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে প্রাইভেট কারটি আটকে যায়। এ সময় গাড়ি থেকে দুইজন নেমে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকা-ের মূল হোতা রাহাতের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে। ওই সময় পুলিশ প্রাইভেট কার ও রাহাতের হাতে থাকা ৭.৬২ বোরের পিস্তল উদ্ধার করে।
আমাদের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়ায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ কিলার মিলন ফকির ওরফে জীবন (২৪) নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গণমুক্তিফৌজের শীর্ষ কিলার মিলন ৮-১০ জন সঙ্গী নিয়ে মঙ্গলবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামের আমানুল্লাহর বাঁশবাগানে নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সশস্ত্র অবস্থায় গোপন বৈঠক করছে বলে জানতে তারা পারে। এ সংবাদ পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় কুষ্টিয়া গোয়েন্দা ও সদর থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জীবন ও তার দলবল গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে শুরু হয় বন্দুকযুদ্ধ। প্রায় ১৫ মিনিট বন্দুকযুদ্ধে জীবন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ সময় তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ জীবনের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, বন্দুকের ৬ রাউন্ড গুলি ও দুটি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ। জীবনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন থানায় চারটি হত্যা, একটি চাঁদাবাজি ও একটি বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত জীবন উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামের দরবেশ ফকিরের পুত্র।
মাত্র পৌনে এক ঘণ্টার ব্যাবধানে কথিত ক্রসফায়ারে চার যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, সভ্য কোনো দেশে এ ঘটনা নজিরবিহীন। ক্রসফায়ারে নিহত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যত গুরুতর অভিযোগই থাকুক না কেন, বিচার পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
অধিকারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ সরকারই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীকে ক্রসফায়ারে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা উদাহরণ টেনে বলেন, ২০০৯ সালের অক্টোবরে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে বিবিসি সংলাপে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে দমন করা যাচ্ছে না বলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বা ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাস বন্ধের বিকল্প পন্থা হিসেবে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা হচ্ছে। এক সময় এমনিই সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের প্রয়োজন হবে না। ২০০৯ সালের ৮ অক্টোবর নৌপরিবহনমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বলেন, ‘দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য এনকাউন্টারে কোনো সন্ত্রাসী নিহত হলে তাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয় না। বর্তমানে এনকাউন্টারের কারণেই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত বছরের মাঝামাঝি ক্রসফায়ার নিয়ে উদ্বেগ ছড়ালে মানবাধিকার সংগঠন ছাড়াও বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত বছরের ১৭ নভেম্বর ক্রসফায়ারের একটি ঘটনা নিয়ে সুয়োমোটো রুল জারি করেন বিচারপতি আবদুর রহমান ও বিচারপতি ইমদাদুল হক সমন্বয় গঠিত সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে মাদারীপুরে লুৎফর খালাসি ও খায়রুল খালাসি নামে দুই ভাইকে গুলি করে হত্যার ঘটনাটি কেন বিচারবহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সরকার ও র্যাবের কাছে জানতে চেয়ে ৪৮ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দেন। দুই সহোদরকে র্যাব আটক করার পর তাদের হেফাজতে হত্যা করা হতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশের ৩৬ ঘণ্টা পর তাদের মৃত্যুর খবর জানা যায়।
খিলগাঁওয়ে ছাত্রলীগ কর্মী সুমন, খিলগাঁও রামপুরায় রাজীব, মোহাম্মদপুরে কলেজছাত্র সুমন, পুরনো ঢাকায় ব্যবসায়ী দুধ মিয়া ও পলিটেকনিকের দুই ছাত্র মহসীন ও জিন্নাহর মৃত্যু সমালোচনার জš§ দেয়। চরমপন্থী দলের ক্যাডারদের যশোরের সন্ত্রাসী পাগলা সেলিম ও তার ভাইকে ঢাকার শ্যামলী থেকে গ্রেফতার করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে কথিত ক্রসফায়ারে হত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী বিতর্কের ঝড় ওঠে।
অধিকারসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হাতে ৫৯ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১ জন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকাকালে মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত এক বছরে র্যাব-পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কথিত ক্রসফায়ারে মারা গেছে ১৫৪ জন। তাদের মধ্যে র্যাবের হাতে ৪১, পুলিশের হাতে ৭৫, যৌথভাবে র্যাব-পুলিশের হাতে ২৫, সেনাবাহিনীর হাতে ৩ এবং আনসারের হাতে ২, জেল পুলিশের ১, বনরক্ষীদের হাতে ১, বিডিআরের হেফাজতে ৫ এবং কোস্টগার্ডের হাতে ১ জন নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লিখিত ১৫৪ জনের মধ্যে ৩৫ জন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে থাকাকালে মারা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ৬৮, ২০০৫ সালে ১১১, ২০০৬ সালে ১৯৫, ২০০৭ সালে ৯৪, ২০০৮ সালে ১৮৬ জন র্যাব ও পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে।
র্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেন, র্যাবের অভিযান চলাকালে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেনি। র্যাব আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই কাজ করছে এবং তারা মানবাধিকার বিষয়ে সচেতন।
বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড সম্পর্কে র্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। অধিকারের পরিচালক নাসিরউদ্দিন এ ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। র্যাব মহাপরিচালকের বক্তব্য অনুযায়ী উল্লিখিত হত্যাকান্ডের ঘটনাগুলো ‘বিচারবহির্ভূত’ নয়, কারণ সেগুলো র্যাবের ‘আইনি কাঠামো’র মধ্যে ঘটেছে। তার এ বক্তব্য আক্ষরিক অর্থে বিচার বিভাগের ভূমিকা এবং প্রত্যেকটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ডের ঘটনার ব্যাপারে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তাকে খর্ব করেছে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম
এ সম্পর্কিত খবর
নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধিনিউজ আওয়াস বিডি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ১৬ জনের সলিল সমাধি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী বাজারের লোকজনের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় ট্রলারের অবশিষ্ট ৯০ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেলেও এদের মধ্যে আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী শৈলচাপড়া হাওরে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
এরা হলো- [...]
আরও খবর
২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশঅর্থনীতি
অর্থনীতি সম্পর্কিত খবরচিঠিপত্র
পাঠকের চিঠিআরও সংবাদ শিরোনাম