বিজ্ঞাপন



আর্কাইভ



আবহাওয়া: ঢাকা

আবছায়া 30°C আবছায়া
মঙ্গল বৃষ্টির সম্ভাবনা
33/26
বুধ ঝড়ের সম্ভাবনা
33/26
বৃহস্পতি ঝড়ের সম্ভাবনা
33/26

Added on জুলাই ২১, ২০১০

রাজনীতির মাঠ নিয়ে ব্যস্ত পুলিশ: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইস্যুগুলোর আগাম তথ্য পাচ্ছে না পুলিশ

রাজনীতির মাঠ নিয়ে ব্যস্ত পুলিশ: আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইস্যুগুলোর আগাম তথ্য পাচ্ছে না পুলিশ thumbnail

নিউজ আওয়ার্স বিডি:
হরতাল, মিছিলসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি সামলাতে রাজনীতির মাঠে ব্যস্ত পুলিশ। এর ওপর রয়েছে বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে নিত্যনতুন দায়ের করা ডজন ডজন মামলার তদন্ত ও আসামিদের ধর-পাকড় তৎপরতা। ফলে নিয়মিত টহল, সন্ত্রাসীদের আস্তানায় হানা, অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযানসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সময় মিলছে না। এ পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বেসামাল হয়ে উঠেছে আন্ডারওয়ার্ল্ড।
এদিকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, ১০ ট্রাক অস্ত্র, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাসহ চাঞ্চল্যকর প্রায় একডজন পুরনো মামলার পুনঃতদন্তে তটস্থ রয়েছে র‌্যাবসহ সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। এ অবস্থায় অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী, ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি এবং পেশাদার খুনি ও ছিনতাইকারী চক্রের গতিবিধি নজরদারিতে রাখতে পারছে না তারা। ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরি-স্থিতির অবনতির ইস্যু-গুলোর আগাম তথ্য পাচ্ছে না পুলিশ।
এর ওপর সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি, হিযবুত তাহ্রীর এবং ধর্মভিত্তিক সংগঠন জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় বিপুলসংখ্যক নেতাকে গ্রেপ্তারের পর দেশব্যাপী একের পর এক চোরাগোপ্তা হামলায় পুলিশ ও সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তা সামাল দিতে। এসব সংগঠনের বোমাবাজ-অস্ত্রধারী ক্যাডারদের হামলার আশঙ্কায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদসহ ভিআইপিদের নিরাপত্তায় নিয়োগ করা হয়েছে স্পেশাল ব্রাঞ্চসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা এবং পুলিশের অস্ত্রধারী ফোর্স। জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় সচিবালয়, বিমানবন্দর ও সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ১০১ স্থাপনায় মোতায়েন করা হয়েছে আমর্ড ফোর্স।
পুলিশের এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলন, ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ ও বিরোধী দল সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক নিত্যনতুন মামলা-তদন্ত ও আসামিদের ধরপাকড়ে পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে; অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালাবে কখন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত দুই মাসে নগরীতে ৪৩ জন খুন ও ৩৯ জন অপহৃত হয়েছে। একই সময়ে ৩৫টি ডাকাতি, ৩৭৭টি চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হামলায় ৪২ জন পুলিশ গুরুতর আহত হয়েছে।
গত ১১ জুলাই অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মাতুয়াইলে গুলি করে ওয়ান ব্যাংকের ৫০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এর ঘটনার মাত্র দু’দিন পর মিরপুরে পৌনে ৪ লাখ টাকা ছিনতাই হয়েছে। এ সময় ছিনতাইকারীদের গুলিতে শহীদুল্লাহ ও আতিকুর রহমান নামে দু’ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এর আগে ১০ জুলাই পোস্তাগোলা ও জুরাইনে ছিনতাইকারীরা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুই ব্যবসায়ীর টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ৬ জুলাই ধানম-ির অর্কিড প্লাজার ম্যানেজার এ কে এম জসিমউদ্দিন চৌধুরীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সন্ত্রাসীরা সাড়ে ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া নগরীতে গত ২০ দিনে আরো প্রায় তিন ডজন দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় মামলা হলেও পুলিশ ছিনতাইকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উদ্ধার হয়নি ছিনতাইকৃত টাকা এবং ছিনতাইকাজে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র।
রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ডিএমপির রমনা, মতিঝিল, পল্টন ও শাহবাগ থানার ওসিরা জানান, গত দু’মাস ধরে প্রায় প্রতিদিনই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরসহ কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বিরোধী দলের এসব রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সরকারদলীয় ক্যাডাররা বাধা দেয়ায় আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে গিয়ে মিরপুর, পল্লবী, যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া ও উত্তরা এলাকায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুরসহ নানা নাশকতামূলক কর্মকা- চালাচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ২৯ জুন জামায়াতের শীর্ষ তিন নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেপ্তারের পর জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ ২৭টি জেলায় ১৭৪টি স্পটে হামলা চালিয়েছে। এসব ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে পৌনে ৮০০ জামায়াত-শিবির ক্যাডার ও পিকেটারকে।
এর আগে বিএনপির ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে ৮৭ জেলায় হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, সড়ক অবরোধ ও পিকেটিংয়ের ঘটনায় ৩ হাজার ৪১৩ জন গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৭ জুলাই বিএনপির মানববন্ধনে বিরোধী দলের সঙ্গে সরকারি দলের ক্যাডার ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাতেও সারাদেশে শতাধিক মামলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা যায়যায়দিনকে বলেন, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে করা রাজনৈতিক মামলাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের তদন্ত করতে হচ্ছে। এসব মামলায় থানার দক্ষ সাব-ইন্সপেক্টর, এমনকি কোথাও কোথাও ওসিদের ‘এনগেজ’ করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক চাপে পড়ে পুলিশ সুপার (এসপি) ও সহকারী পুলিশ সুপারসহ (এএসপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এসব মামলা নিয়মিত তদারকিতে ব্যস্ত থাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
গোয়েন্দারা বলছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে জামায়াত-শিবির এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ সঙ্কট সমাধানে বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি জোরদার হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
র‌্যাব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দখলবাজি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকা-ে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা সরাসরি মদদ দিচ্ছে। এছাড়া ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং দলের নেতাকর্মীদের স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর খবরদারির কারণে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ২৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ৭২৩ জন আহত হয়েছেন। চলতি মাসে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ৬৫টি এবং বিএনপির ১১টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৪ নিহত এবং ৬৬৯ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে দুজন নিহত এবং ১১৩ জন আহত হয়েছেন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক আন্দোলন কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা না করে পুলিশকে দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। ফলে রাজনীতির মাঠ চষে বেড়াতে হচ্ছে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে। এ সুযোগে আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও লুটপাটসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকা-ে সন্ত্রাসীরা তৎপর হয়ে উঠায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলায় পুলিশকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় তাদের অনেকেই পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ছে। সুযোগ বুঝে নির্যাতন, অপহরণ, এমনকি খুনের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ।
গত ছয় মাসে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিরুদ্ধে ৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে মানবাধিকার কমিশনে। ফর মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের (এমআরটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সময় র‌্যাব-পুলিশের হাতে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।









এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ


সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম

এ সম্পর্কিত খবর

নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধি thumbnail নৌকাডুবি: সুনামগঞ্জে ১৬ জনের সলিল সমাধি

নিউজ আওয়াস বিডি:
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ইঞ্জিনচালিত নৌকা ডুবে স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ১৬ জনের সলিল সমাধি হয়েছে। পার্শ্ববর্তী বাজারের লোকজনের তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতায় ট্রলারের অবশিষ্ট ৯০ জন যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেলেও এদের মধ্যে আহত হয়েছে প্রায় ৩০ জন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টায় উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারের পার্শ্ববর্তী শৈলচাপড়া হাওরে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
এরা হলো- [...]

আরও খবর

২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ thumbnail ২১৯০ জনকে নিয়োগ দিতে সুপারিশ করে ২৮তম বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ

অর্থনীতি

অর্থনীতি অর্থনীতি সম্পর্কিত খবর

চিঠিপত্র

চিঠিপত্র পাঠকের চিঠি

আরও সংবাদ শিরোনাম