মেঘ অদিতির ৫টি কবিতা
দ্বিধা
আর তারা জানে সেই সন্ধ্যায়
এ হাত ছুঁয়েছে দ্বিধা
তাই…
বড় অল্পে আঙুল কেঁপে যায়।
শূন্যে থাবা তুলে যে ছায়া কাছে আসে
তাকে চিনি বলে ভয় হয় খুব
সরে যেতে যেতে সীমানা ছাড়ালে
খরচোখ বলে, ‘একদম চুপ!’
পাঁজরে আর্তনাদ তবু নির্বাক
ডুবে যাই অভ্যস্ত অন্ধ তীব্র কামে
অথচ রাত্রি গোপন আমারই মতন কুলিনারি
ডানায় সর্বনাশ ধ্বংস ডেকে আনে।
সন্ধ্যা
রোদছুটি ফুরোতে আড়মোড়া ভেঙে
লকলকে জিভ… বিস্তারিত
চঞ্চল মাহমুদের দুটি কবিতা
কতিপয় তাহাদের প্রতি
তারেক মাসুদ এবং মিশুক মুনীরকে উৎসর্গ করে
নাগরিক কোলাহল ছেড়ে কোন এক বালির জঙ্গলে দুটো পাখি
উড়তে পারে নি তাই অপু-দূর্গা-হরিহর-সর্বজয়া এবং সত্যজিত
সব মিলে যায়
আমাদের বালির জঙ্গল হয়ে উঠল তুলোর মহাকাল;
বাতাসে তুলোর বীজ অন্তঃসত্তা।
সুনীলবাবু, তোমার তুলোর বীজ বাচ্চা দিয়েছে আমাদের জঙ্গলে;
দেখে যেও
আর ধূলোর গাড়ি, আর স্বপ্নবিকোনো-হাওয়ায় না-ফেরা চৈত্রের
কর্কশ রোদ
সুনীল এবং সত্যজিত, তোমরা বালির জঙ্গল পেয়েছ,
তুলোর বীজ পেয়েছ
আর… বিস্তারিত
পরিতোষ হালদারের দশটি কবিতা
সুবর্ণগ্রাম
একদিন ভরে দেবো তোমার জোয়ার। ভেজস গন্ধের লাজ; প্রথম প্রহর শেষে ফিরে গেছে অরণ্যের জাদু উৎসব। নিজের তরল তলে সারি সারি জন্মের ছায়া; ঢেউয়ের চকচকে আমূর্ত্য পিপাসার ঘ্রাণ। সবুজের পাতায় পাতায় কোনো কোনো সবুজ আমার নিদ্রা নিয়ে খেলা করে। রাতের গভীরে প্রাগ্নিসর্গিক জল। স্মারক শ্রাবণ জুড়ে বিগত দিনের হাওয়া, মানভর্তি পাহাড়ের ধুলি। আমি সমতট দ্বীপমালা ধরে হেঁটে যাবো দীর্ঘগঙ্গার দিকে, পথে পথে অজস্র নদী। কোথায় সুবর্নগ্রাম- কতদূর জন্মান্তরের স্রোত।… বিস্তারিত
অজয় রায় এর ছয়টি কবিতা
জননী-জীবন
আমার এ মৃত্তিকা দু’টি হাতে
তোমার জননী-জীবন একবার ঢেলে দাও−
আমি বুকের সুপাত্রে ভরে রাখি সোনার বকুল;
একখানি ফুলে ভেজা সোনালী প্রভাত।
নয়ন-পুষ্পে তুলে রাখা তুমুল অমানিশা
একবার আলোর অমৃতে ভিজুক।
একবার ভালবাসা পেলে
আমার এ অঙ্গন দিয়ে দেব,
সেখানে রাতের সোহাগী রোদে বুনো নম্র-শিশির।
একটু ভালবাসা পেলে
সূর্যের ভিতর রোবো শিমুল ফুলের উৎসব।
ভোর খুলে এনে দেব শিশু-সোনা-রোদ।
বুকের করিডোর খুলে দিয়ে যাব
নষ্ট নিয়তির কষ্ট টুকু একবার… বিস্তারিত
মুরাদুল ইসলামের চারটি কবিতা
প্যারাডক্স
পবিত্র গ্রন্থে আছে,
পৃথিবী ধ্বংসের দিন সূর্য, চন্দ্র মিশে এক হয়ে যাবে।
তুমুল ইচ্ছা আমার, সেইদিন দেখব দাড়িয়ে।
তুমি কি আমার সাথে এক হয়ে মিশে যাও,
নাকী তৈরী কর এক জটিল প্যারাডক্স।
ঘুম
জানতো না আসহাবে কাহাফের সেই সাতজন যুবক, ঘুমানোর আগেও
যে ঘুম ঘুমাল তারা সেই ঘুমই হবে তাদের মরণঘুম।
জানলে না তুমিও
যে ঘুমে চোখ বন্ধ করলে এইমাত্র
সেই ঘুমেই ঘুমন্ত হবে পৃথিবী।
অন্ধকার
অন্ধকার, তুমি সহস্র… বিস্তারিত
অনিরুদ্ধ আনজিরের ৫টি কবিতা
স্বাধীনতা চাই
আমি হাওয়াকে তরল বানাই
অধিকার আদায়ে তর্জনী তুলে বলি;
আমি মানুষ আমার স্বাধীনতা আছে।
আমি আমার কথা পার্লামেন্টে বলিনা
এই রাস্তায়, ফুটপাতে অথবা
পার্কের বেঞ্চিতে বসে
শত সহস্রবার বলি;
আমি মানুষ আমার স্বাধীনতা আছে।
বায়বীয় স্বাধীনতা তরল হয়ে ছুঁয়ে যায়
গাছের শরীর ফুলের শরীর।
গাছ ঘেষা ফুল ঘেষা স্বাধীনতা
দাঁত খেলিয়ে হাসে।
হাসির শব্দে আমি বধির হয়ে যাই
মাথায় অনুরণিত হয়
বিজয় একাত্তর।
গর্জে উঠো, অঙ্গুলি তুলো
হাওয়াতে… বিস্তারিত
কুমার দীপের এগারোটি কবিতা
পুরুষ পুরাণ- চার
(নিজের স্ত্রী মানে কারো না কারো মা, কোনো মা’কে অসম্মান কোরোনা)
যাকেই তুমি আদর করো, সোহাগ করো
যার নদীতে নাও ভাসাও ;
আল্লাদের বীর্যবিষে
বানিয়ে তোলো মা
তারেই তুমি মারলে লাথি, ভাঙলে কচা,
একটু বাধলো না !
তোমার জননী যিনি, তিনিও কি একদিন এভাবেই ধরেছিলেন পা ?
কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, ‘মরে যাবো, আর মেরো না ?’
তুমি তো শুয়োর হয়েছ,
বাচ্চাটাও হবে একদিন
আরও এক মায়ের সিনায়… বিস্তারিত
আশিক রেজার দু’টি কবিতা
যমুনার বুক বেয়ে ভেসে আসে জলীয়বাস্পশূন্য বায়ু
দক্ষিণের বাক্সে পুরানো কাঁথার সেলাই
উত্তরে নেই এতটুকু ভদ্রতা
উপরে এবং নিচে- আমিও মাথা দোলাই
ক্ষমতার বাক্সে হ্যা ভোট দেয় নিয়তবায়ু
বুকের গহীনে জমা যতটুকু জলজ প্রয়াস, অপেক্ষার সমূহ শিশির
মিলায় মিঠাকড়া রোদের মায়ায়
প্রিয়তমা, সরাও তোমার মরিচিকা করুণার ঠোঁট
বালিশের চুমুতে অভ্যেস হয়ে গ্যাছে
অভিস্রবণ
ক্রমশঃ সম্পর্কের ভিতরে ঢুকে যাচ্ছি
দৃশ্যান্তরে ঢুকে যায় তুলা
সুতা কাপড়ের বুননে বুননে
সুত্রধরের স্বপ্ন, দৈনন্দিন আনন্দ,… বিস্তারিত
কামরুল হাসানের ছয়টি কবিতা
আমার বন্ধুরা
বাস্তবিক বাঘ ছিল, ডোরাকাটা ঘুরত সদর্পে, ছড়াত ভয়
এখন প্রত্যেকেই ঢুকে গেছে নিজস্ব গুহায়।
নক্ষত্রপ্রদেশের দ্যুতিময় বাগানের নাভিসন্ধিতক্
রৌদ্রের ডোরা নিয়ে তাদের বাঘিণীরা চমকায়।
ছানাপোনাদের নিয়ে সত্যিকার মগ্ন ও সন্ত্রস্থ রয়েছে!
দেখেছে অগ্রগামী জরার সমুদ্র খুব কাছে চলে আসে
তাদের বিস্মিত দৌঁড়ের ওড়ানো বেলুন আর দীপ্তিময় ফটোগ্রাফ
এক বিষন্ন যাদুঘরে পড়ে আছে।
নাভিশ্বাস দৌড়ের দীর্ঘ টানেলের শেষে এক নিবিড় গুহায়
স্বাস্থ্যপ্রদ বিশ্রামের নায়ে দুলে দুলে
দিয়েছে বিস্তর পাড়ি… বিস্তারিত
মলয় রায়চৌধুরীর ৫টি কবিতা

পপির ফুল
বোঁটায় তোর গোলাপ রঙ অবন্তিকা
শরীরে তোর সবুজ ঢাকা অবন্তিকা
আঁচড় দিই আঠা বেরোয় অবন্তিকা
চাটতে দিস নেশায় পায় অবন্তিকা
টাটিয়ে যাস বীজ ঝরাস অবন্তিকা
প্রেম ফেরে, ফেরে না
ভরপুর সন্ধ্যায় তোকে দেখলুম অবন্তিকা প্রেমের মৌতাতে ঝিমিয়ে
চুয়াল্লিশ বছর আগের ধুলো আর শুকনো ঘাস আজও তোর বুকে-পিঠে
সারা গায়ে দাগড়া-দাগড়া চাঁদের-দোষ, আহা, পূণ্যের ফল
ঢেউ তুলে কাঁপছিস পেটে হয়ত ক্রিমির জটিল ঘূর্ণির পাক
স্বর্ণলতার চুল তোর দু-কাঁধ বেয়ে কোমরে নেমেছে
রাস্তার… বিস্তারিত


